বিশেষ প্রতিনিধি, মোঃ মনির।।
সংগৃহীতখবর ://দেশের বিভিন্ন কারাগারে মুক্তির অপেক্ষায় ১৫৪ জন বিদেশি বন্দি। দীর্ঘদিন সাজার মেয়াদ শেষ হলেও প্রকৃত অভিভাবক না পাওয়ায় তাদের মুক্তি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি ওই বন্দিদের দূতাবাসগুলোও তাদের গ্রহণ করছে না। এ নিয়ে দফায় দফায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চিঠি দিলেও তাতে মিলছে না সাড়া।
এমন পরিস্থিতিতে ওই বন্দিদের নিয়ে বিপাকে কারা কর্তৃপক্ষ। বিদেশি বন্দিদের ভাষা বুঝতে পারা নিয়েও রয়েছে জটিলতা। পাশাপাশি তাদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে সরকারের।কারা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে বিদেশি বন্দি ৩৬৪ জন। এদের মধ্যে হাজতি ১৪২ জন ও কয়েদি ৬৮ জন। এছাড়া ১৫৪ বিদেশি বন্দি মুক্তির অপেক্ষায়। কারা ভাষায় তাদের আরপি (রিলিজ প্রিজন) বন্দি বলা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, মাদক চোরাচালান, অবৈধ উপায়ে স্বর্ণপাচার, প্রতারণা, জাল ডলার ব্যবসা, পাসপোর্ট জটিলতা, অবৈধ ভিওআইপির ব্যবসা ও মানবপাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন এসব বিদেশি বন্দি।
মুক্তির অপেক্ষায় থাকা এসব বন্দি- ভারত, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়ার নাগরিক। এর আগে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, তানজানিয়াসহ পূর্ব আফ্রিকার কিছু দেশের নাগরিক মুক্তিপ্রাপ্ত ছিলেন, দেরিতে হলেও সংশ্লিষ্ট দেশ তাদের ফিরিয়ে নিয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, সাজা শেষ হওয়ার পরও বিদেশি নাগরিকরা নিজ দেশে ফিরতে পারছেন না। ফিরিয়ে নিতে বন্দিদের নাম-ঠিকানাসহ সব তথ্য সংবলিত কাগজ ঢাকায় সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসকে দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ওইসব দূতাবাস/হাইকমিশনে চিঠি পাঠানো হয়। এরপরও আশানুরূপ সাড়া মিলছে না। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে।সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যমতে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের ৬৯ কারাগারের ধারণক্ষমতা ৪২ হাজার ৮৭৭ জন। অথচ বর্তমানে কারাগারগুলোতে মোট বন্দির সংখ্যা ৭০ হাজারের বেশি।