বিশেষ প্রতিনিধি, মোঃ মনির।।
আফজাল হোসেন জয়।
বান্দরবান প্রতিনিধি//
বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলিপাড়ায় তিন ইউনিয়নে সংযোগ স্থাপনকারী অভ্যন্তরীণ সড়কের বেহাল দশায় প্রায় ৫০টি গ্রামের মানুষ, প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, বলিপাড়া ইউনিয়নে সড়কটির বলিবাজার সাঙ্গু সেতু থেকে বলিপাড়া খ্রিস্টান মিশন পর্যন্ত ১ কিলোমিটার জুড়ে রাস্তার ব্রীক সোলিং, ইটের টুকরো ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ দিন যাবৎ সংস্কার না করার কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কটি। ফলশ্রুতিতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়ছেন তিন ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি গ্রামের হাজারো মানুষ।
থানচি ও রুমা উপজেলার বলিপাড়া, গালেংগ্যা ও রেমাক্রি প্রাংসা ইউনিয়নের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন বলিপাড়া, ক্যচু পাড়া, মরো পাড়াল ব্রহ্মদত্ত পাড়া, জৈতুন পাড়া, জ্ঞানলাল পাড়া, এদেন পাড়া, রামদু পাড়া, মুংগহা পাড়া, সতিচন্দ্র পাড়াসহ ২ উপজেলার ৩ ইউনিয়নের প্রায় ৫০ গ্রামের মানুষের চলাচল। এছাড়া অভ্যন্তরীণ এই সড়কটি ৩ ইউনিয়নের লোকজনের যাতায়াতের প্রধান সড়ক।
বলিবাজার এলাকাটি দুইটি উচ্চ বিদ্যালয়, ১০টি সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পাহাড়ের ফলফসলাদি ও তরিতরকারি বিভিন্ন পণ্যের হাটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দুই উপজেলায় বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ী ও কৃষকরা এখানে পণ্য কেনাবেচার জন্য আসেন। কিন্তু সড়কের করুণ অবস্থার কারণে তারা সময় মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না, যা ব্যবসায়িক ও কৃষকের জন্য ক্ষতিকর ও ভোগান্তির বিষয়ে পরিনত হয়েছে।
প্রতিদিন এই সড়কে টমটম, তিন চাকার মাহেন্দ্র গাড়ি ও ভি-সেভেন্টি (চাঁদের গাড়ি) সহ ছোট-বড় ট্রাক যানবাহন চলাচল করে। সড়কের দুরবস্থার কারণে প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এছাড়া এলাকাবাসী, পথচারী ও চালকদের জন্য সড়কটি এখন মারাত্মক দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এলাকার কৃষিজীবী মানুষরা তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষিপণ্য কলা, আম, কাজুবাদাম, আদা, হলুদ, তরিতরকারি বাজারজাত করতে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সড়কের বেহাল দশায় শিক্ষার্থীরাও স্কুলে যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে।
এই নিয়ে প্রফুল্ল পাড়ার বাসিন্দা শান্তি রঞ্জন চাকমা বলেন, এই রাস্তায় বিভিন্ন স্থানে গর্ত হয়ে যাওয়ার কারণে যাতায়াতের খুবই কষ্ট হচ্ছে। বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই, চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে যায় রাস্তাটি। রাস্তা সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
টমটম গাড়ি চালক রতন কর্মকার বলেন, এই রাস্তায় ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। রাস্তার খারাপ হওয়ার কারণে গাড়ি নষ্ট হয়ে ঘনঘন ঠিক করতে হয়। বৃষ্টি হলেই আর গাড়ি চালানো যায় না। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করার জন্য দাবি জানাচ্ছি।
বাসিল মরো পাড়া কারবারি বার্নাড ত্রিপুরা বলেন, সড়কের প্রতিদিন অন্তত শত শত মানুষ যাতায়াত করেন। এই পথ দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের একমাত্র সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অতি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।
এই বিষয়ে বলিপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ক্যসাউ মারমা জানান, সাঙ্গু সেতু থেকে বলিপাড়া খ্রিস্টান মিশন পর্যন্ত অনুমানিক ১ কিলোমিটার পর্যন্ত রাস্তাটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এলাকাবাসী কোনোভাবে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটিতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এই বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বলিপাড়া খ্রিস্টান মিশন সড়কটি বর্তমানে খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। সামনের বাজেটে বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, বলিপাড়া খ্রিস্টান মিশন সড়কটির বেহাল দশা সম্পর্কে অবগত হয়েছি। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।