বিশেষ প্রতিনিধি, মোঃ মনির।।
মোঃমনিরহোসেন ://
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে ফেনীতে রেকর্ড বৃষ্টিপাত হচ্ছে। জেলা শহরের বেশিরভাগ সড়ক তলিয়ে গেছে। ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে নদীর পানি। সীমান্তবর্তী ফুলগাজী এবং পরশুরাম উপজেলায় অসংখ্য স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকছে পানি। বিভিন্ন এলাকা এরই মধ্যে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ফেনীর বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জানিয়েছে, মুহুরী ও সিলোনিয়া নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এসব নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। এসময়ে ফেনীর বন্যা পরিস্থিতিও স্থিতিশীল থাকতে পারে।
বুধবার (৯ জুলাই) নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানায় সংস্থাটি।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপ বিরাজমান আছে। ও অববাহিকায় আগামী একদিন বা ২৪ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া পরবর্তী দুদিন মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
অন্যদিকে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে হালদা নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং চট্টগ্রাম জেলার নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে, যা পরবর্তীতে হ্রাস পেতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের ফেনী, সাঙ্গু এবং গোমতী নদীগুলোর পানি বাড়ছে। মাতামুহুরীর পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে। আগামী একদিন গোমতী নদীর পানি বাড়তে পারে। অন্যদিকে সাঙ্গু এবং মাতামুহুরীর পানি কমতে পারে। এর পরবর্তী দুদিন এসব নদীর পানি কমতে পারে।
সিলেট বিভাগের মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীসমূহের পানি বাড়ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা এসব নদীর পানি বাড়তে পারে। পরবর্তী দুদিন নদীসমূহের পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদ-নদীর পানি স্থিতিশীল আছে। আগামী দুদিন পানি বাড়তে পারে। পরবর্তী তিনদিন পর্যন্ত পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এছাড়া গঙ্গা-পদ্মা নদীসমূহের পানি বাড়ছে; যা আগামী পাঁচদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে; এসময়ে নদীসমূহ বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
এতে আরও বলা হয়, পরিস্থিতি বিবেচনায় ওয়ার্ডভিত্তিক জরুরি রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিএসসিসির আওতাভুক্ত এলাকায় কোথাও অস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিলে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষের মোবাইল ফোন নম্বরে (০১৭০৯৯০০৮৮৮) জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।