বিশেষ প্রতিনিধি, মোঃ মনির।।
মোঃ মনিরহোসেন ://
রাজধানীর ঢাকার মতিঝিলের ‘ক্লাবপাড়ার এলাকায় অবস্থিত আরামবাগ স্পোর্টিং ক্লাব বর্তমানে নিষিদ্ধ জুয়ার এক রমরমা কেন্দ্রবিন্দুতে। এক সময়ের ক্রীড়াচর্চার প্রাণকেন্দ্র এই ক্লাবে এখন আর ফুটবলের কোনো কার্যক্রম নেই; বরং রাতভর চলছে কোটি টাকার অবৈধ জুয়ার আসর। তথ্যসূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ক্লাবটির পরিচালনায় জড়িয়ে আছেন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা কিছু ব্যক্তি। বিশেষ করে, সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় যাঁরা যুবলীগের ব্যানারে অবৈধ কর্মকান্ড চালাতে সহযোগিতা করেছেন, তাঁরাই এখনো ক্লাব কমিটির নেতৃত্বে থেকে নিষিদ্ধ জুয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, বর্তমান কমিটিতে থাকা একাধিক নেতা অতীতে ক্যাসিনো সম্রাট হিসেবে পরিচিত যুবলীগের বিতর্কিত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাঁদের সহযোগিতায় ‘হিরন গং’ নামক একটি নিষিদ্ধ জুয়া চক্র এখন এই ক্লাবের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ‘তাঁতী লীগ’ পরিচয়ে আওয়ামী লীগের আশ্রয়–প্রশ্রয়ে থাকা এই চক্রটি ক্লাবটি ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করছে নিষিদ্ধ জুয়ার আসর।
সূত্র আরও জানায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিত্তবান ও উচ্চবিত্ত জুয়াড়িদের দৃষ্টিনন্দন লোভনীয় অফারে রাজধানীতে টেনে আনা হচ্ছে। রাতভর ক্লাবঘরে চলে হাউজি, ডাইস, রুলেটসহ নানা রকমের জুয়া। এতে অনেকেই নিঃস্ব হচ্ছেন, অথচ প্রশাসন রয়েছে রহস্যজনকভাবে নীরব। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গত ২৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে ক্লাবটিতে সবধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করা হয়। কিন্তু অবাক করার মতো,মাত্র চার দিনের ব্যবধানে—৩১ জুলাই থেকে আবারও চালু হয় সেই একই জুয়ার আসর। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, ক্লাবটি মতিঝিল থানার মাত্র ১০০ গজ দূরে হলেও, থানার ভূমিকা অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ। তাঁরা বলছেন, এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে দিনের পর দিন চলে, তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
মতিঝিল থানা অফিসার ইনচার্জকে এ বিষয়ে একাধিকবার কল করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। এ বিষয়ে মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে এমন জুয়ার আসর রাজধানীজুড়ে অপরাধপ্রবণতা বাড়াবে। আরামবাগ স্পোর্টিং ক্লাবের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হলে এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে আমি আশাবাদী—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অচিরেই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।