বিশেষ প্রতিনিধি, মোঃ মনির।।
মোঃ কামরুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি :-
পাহাড়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদানের আড়ালে সরকারের বিশাল অংকের ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাঙ্গামাটির স্থানীয় আইএসপি (ISP) প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। গ্রাহকদের পকেট থেকে ভ্যাটের টাকা আদায় করলেও তা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করছে চক্রটি। একইসঙ্গে ইন্টারনেটের ধীরগতি ও নিম্নমানের সেবা নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের নাভিশ্বাস উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমানে রাঙ্গামাটি জেলায় প্রায় ২৫-২৭টি ব্রডব্যান্ড কোম্পানি সক্রিয় রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহকদের বিলের সাথে নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান প্রকৃত গ্রাহক সংখ্যা এবং আয়ের তথ্য গোপন করে নামমাত্র ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করছে। প্রাথমিক তথ্যমতে, এই অনিয়মের ফলে প্রতি মাসে সরকারের কয়েক লক্ষ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।
অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে 'ইয়েস নেট' নামক প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য জানতে চাওয়া হলে তারা কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বিটিআরসি-এর দোহাই দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। একইভাবে 'কুমিল্লা নেট' ও অন্যান্য স্থানীয় কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করা হলে তারাও কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা সংবাদকর্মীদের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
এ বিষয়ে রাঙ্গামাটির ভ্যাট কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, জেলাতে এতগুলো কোম্পানি কার্যক্রম চালাচ্ছে তা দপ্তরের জানা ছিল না। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন,
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে আমরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করছি। প্রমাণ পাওয়া গেলে ভ্যাট আইন অনুযায়ী জরিমানা ও বকেয়া আদায়সহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর সমন্বয়ে আমরা সরেজমিন অভিযান পরিচালনা করব।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিটিআরসি-এর লাইসেন্স এবং সোনালী ব্যাংকের ভ্যাট জমার চালানের স্টেটমেন্ট যাচাই করলেই এই বড় ধরণের জালিয়াতি ধরা পড়বে। এই রাজস্ব ফাঁকির ফলে যারা বৈধভাবে নিয়ম মেনে ব্যবসা করছেন, সেইসব আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে চরম অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।
অন্যদিকে, নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত ইন্টারনেট স্পিড পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। শহরজুড়ে গ্রাহকদের অভিযোগ, ইন্টারনেট সেবা এখন 'জরুরি সেবা' হলেও রাঙ্গামাটিতে তা 'ভোগান্তির' নামান্তর হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রাহকদের দাবি, ডিজিটাল বিলিং সিস্টেম চালু না থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো এই লুটপাটের সুযোগ পাচ্ছে।সচেতন মহলের মতে, ইন্টারনেট খাতে এই বিশৃঙ্খলা রোধে অবিলম্বে,
নিয়মিত সরকারি অডিট পরিচালনা করা।
লাইসেন্স নবায়নের সময় গ্রাহক সংখ্যার স্বচ্ছতা যাচাই করা।প্রতিটি গ্রাহকের জন্য ডিজিটাল ইনভয়েস বাধ্যতামূলক করা।রাজস্ব ফাঁকির এই মহোৎসব বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজস্ব কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন রাঙ্গামাটির সাধারণ মানুষ।