বিশেষ প্রতিনিধি, মোঃ মনির।।
মোঃকামরুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি :
রাঙ্গামাটিতে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ও ধর্মীয় পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১২তম গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি পরীক্ষা এবং গাউছুল আজম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী কারিগরি মেধাবৃত্তি পরীক্ষা–২০২৫-এর বৃত্তি প্রদান ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান।শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.) সকাল থেকে রাঙ্গামাটির ঐতিহ্যবাহী রাণী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয় অডিটরিয়াম ছিল শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, আলেম-ওলামা ও সুধীজনের পদচারণায় মুখরিত। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়।অনুষ্ঠানটির পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন আওলাদে রাসুল, সাজ্জাদানশীনে দরবারে গাউছুল আজম, রাহনুমায়ে শরীয়ত ও তরীকত আলহাজ্ব হযরত মওলানা শাহ্ সুফি মাইজভাণ্ডারী সৈয়দ এমদাদুল হক।অনুষ্ঠানটি সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করেন, সৈয়দ ইরফানুল হক—নায়েব সাজ্জাদানশীন, গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিল; ম্যানেজিং ট্রাস্টি, মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফ;চেয়ারম্যান, দারুল ইরফান রিসার্চ ইনস্টিটিউট (DIRI) এবং মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশন।এসময় বক্তারা বলেন “গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী (রহ.) ছিলেন মানবতার আলোকবর্তিকা। তাঁর আদর্শকে ধারণ করে শিক্ষার মাধ্যমে আলোকিত মানুষ গড়ে তোলাই এই মেধাবৃত্তির মূল উদ্দেশ্য। শুধু ভালো ফল করাই নয়, নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠাই আমাদের প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব দেব প্রসাদ দেওয়ান, সদস্য, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ।তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড। গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তির মতো উদ্যোগ পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন উদ্যোগ সমাজে আলোর পথ দেখায়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— ড. আজাদ বুলবুল, লেখক, গবেষক ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাশিল্পী। তিনি বলেন— বর্তমান সময়ে কেবল সনদভিত্তিক শিক্ষা নয়, নৈতিক শিক্ষা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এই মেধাবৃত্তি শিক্ষার্থীদের মননশীলতা, শুদ্ধতা ও মানবিক চেতনাকে জাগ্রত করবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন ড. শামসুদ্দীন শিশির, শিক্ষা চিন্তক ও শিক্ষক প্রশিক্ষক, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, চট্টগ্রাম, তিনি তার বক্তব্যে বলেন—শিক্ষাকে যদি মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তবেই জাতির ভবিষ্যৎ নিরাপদ হবে। গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে সেই কাজটিই করা হচ্ছে।উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, রণতোষ মল্লিক, প্রধান শিক্ষক, রাণী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয় ও হল সুপার এবং গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি ও মেধা বিকাশ পরীক্ষা–২০২৫-এর সভাপতি।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, এই মেধাবৃত্তি কেবল পুরস্কার বিতরণ নয়, এটি একটি আদর্শ মানুষ গড়ার আন্দোলন। শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও মানবিক চর্চার দিকে নিয়ে যেতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরো বলেন গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী (রহ.) ছিলেন মানবতার আলোকবর্তিকা। তাঁর আদর্শকে ধারণ করে শিক্ষার মাধ্যমে আলোকিত মানুষ গড়ে তোলাই এই মেধাবৃত্তির মূল উদ্দেশ্য। শুধু ভালো ফল করাই নয়, নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠাই আমাদের প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন— মোঃ হাসান উদ্দিন, পুরানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, উপস্থাপক ও সংবাদ পাঠক, বাংলাদেশ বেতার।
সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মোঃ পারভেজ উদ্দিন, সভাপতি, শাহ এমদাদিয়া জেলা কমিটি, রাঙ্গামাটি।
তিনি বলেন, গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি কর্মসূচি শুধু মেধাবীদের স্বীকৃতি নয় বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শালীনতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম।তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এই বৃত্তি কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে এবং পাহাড়ি অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীরাও এর সুফল ভোগ করবে।অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি, শিক্ষার্থী ও মানবতার কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।