বিশেষ প্রতিনিধি, মোঃ মনির।।
মোঃমনিরহোসেন ://ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে জনগণ বসে থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো যদি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণ বসে থাকবে না। জনগণ তাদের দায়িত্ব ঠিকই পালন করবে এবং সুষ্ঠু ভোট আদায় করে ছাড়বে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন। সেই সঙ্গে তিনি নির্বাচনে শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীগুলোকে তাদের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান।
বৈঠকে শফিকুর রহমানসহ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ঐক্যর সব দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা কারও আনুকূল্য চাই না। আবার অন্য কাউকে আনুকূল্য দেখানো হোক সেটাও দেখতে চাই না। অতীতের মতো আর কাউকে দেখতে চাই না যে সরকারি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী-কর্মকর্তা হয়ে কেউ নির্দিষ্ট কারও পক্ষ নেবেন। এটা আমরা একেবারেই দেখতে চাচ্ছি না। আমরা চাই সবাই নিরপেক্ষতার সঙ্গে যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।’
বৈঠকের বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজ আমরা জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের শীর্ষ দায়িত্বশীলরা একসঙ্গে বসেছিলাম। আমরা দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করেছি। আগামী ১২ তারিখ ইনশাআল্লাহ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একই দিনে দুটি ভোট। একটি গণভোট, দ্বিতীয়টি হচ্ছে সরকার গঠনের জন্য ভোট।
গণভোটে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সারাদেশে সর্বত্র আমাদের প্রচারণার শুরু থেকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’, এই মোটিভেশন নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি এবং আমরা আশাবাদী ইনশাআল্লাহ বিপুল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হবে। ‘হ্যাঁ’ যদি বিজয়ী হয় তাহলে বাংলাদেশ জিতে যাবে। ‘হ্যাঁ’ যদি বিজয়ী হয় তাহলে ইনশাআল্লাহ জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হওয়ার পথ খুলে যাবে। ‘হ্যাঁ’ যদি বিজয়ী হয় তাহলে অতীতের নির্যাতন-নিপীড়নের অবসান ঘটবে এবং তার যৌক্তিক ন্যায়সংগত বিচার হবে। ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে আবরার ফাহাদ থেকে শুরু করে আমাদের বিপ্লবী শরিফ ওসমান হাদি পর্যন্ত সবার বিচারটা তাদের পরিবার পাবে। এই যে ১৪০০ শহীদ, যারা জীবন দিয়ে জাতিকে জীবন এনে দিল, তাদের প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি এবং সেই সঙ্গে সব জুলাই যোদ্ধার প্রতি।’
দল ও জোটের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা জোটের দলগুলা সবসময় সংস্কারের পক্ষে ছিলাম। আমরা পরিবর্তনের পক্ষে ছিলাম। জাতি অতীতের রাজনীতির ভুক্তভোগী এবং এই জাতির অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। ৫৪ বছরে এই জাতি বহুদূর এগিয়ে যেতে পারতো। দুর্নীতি-দুঃশাসনের কারণে জাতি এগুতে পারেনি। আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থা এবং আমরা সমাজে সুশাসন বা গুড গভর্নেন্স দেখতে চাই। এর সঙ্গে সঙ্গে আমরা সমাজের সর্বত্র ন্যায়বিচার কায়েম করতে চাই। এই দুটি জিনিস যদি নিশ্চিত করা যায় তাহলে আমাদের সমাজ যেভাবে পশ্চাৎপদ হয়ে পড়ে আছে এ অবস্থা থেকে উত্তরণ হবে।’
যুবকদের আকাঙ্ক্ষা ছিল তারা হাতে কাজ নিয়ে দেশ গড়তে চায়, তারা কোনো ভাতা বা কারও কোনো দয়া দেখতে চায় না উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যুবকরা নিজেই এই বাংলাদেশ গড়ার গর্বিত অংশীদার হতে চায়। এক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। তাদের হাতে ভাতা নয়, বরং তাদের উপযুক্ততা অনুযায়ী কাজ তুলে দিয়ে বলতে চাই, এইবার তোমরাই বাংলাদেশটা গড়ো।