বিশেষ প্রতিনিধি, মোঃ মনির।।
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। সোমবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফতুল্লার পূর্ব দেলপাড়া এলাকার চানাচুর ফ্যাক্টরি সংলগ্ন নিজ বাড়িতে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম জাহাঙ্গীর আলম জনি (৪০)। তিনি রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে চাকরি করতেন। অভিযুক্ত স্ত্রীর নাম ফারজানা আক্তার মুন্নি।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম জনি সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাড়িতে ফেরেন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নি খাবারের সাথে তাকে পাঁচটি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ান। জনি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুন্নি ধারালো চাপাটি ও ছুরি দিয়ে তার গলা এবং হাতের কব্জির রগ কেটে ফেলেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত ফারজানা আক্তার মুন্নিকে আটক করে হেফাজতে নেয়। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাটি ও ছুরিটি জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, অভিযুক্ত ফারজানা আক্তার মুন্নির এটি দ্বিতীয় সংসার। আগের সংসারে তার একটি স্বামী ও দুই সন্তান রয়েছে। বর্তমান সংসারে জাহাঙ্গীর আলম জনির সাথে তার দেড় বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।