বিশেষ প্রতিনিধি, মোঃ মনির।।
মোঃ মনির হোসেন://
প্রকাশিত: ০৮ জুলাই ২০২৬
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর অবশেষে ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া একটি সন্তান তার আইনি পিতৃপরিচয় খুঁজে পেয়েছে। অন্যদিকে, এই চাঞ্চল্যকর মামলার একমাত্র আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে ভুক্তভোগী পরিবারকে আর্থিক জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ (৮ জুলাই ২০২৬) বিজ্ঞ আদালত এই ঐতিহাসিক ও মানবিক রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর পুলিশি পাহারায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে আদালত কক্ষ থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক যুগ আগে এক নারী ধর্ষণের শিকার হন এবং পরবর্তীতে তার একটি সন্তান জন্ম নেয়। সন্তান জন্মের কিছুদিনের মধ্যেই লোকলজ্জা ও মানসিক যন্ত্রণায় ভুগে ওই মায়ের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে তিনি সন্তানের পিতৃপরিচয় ও সুনির্দিষ্ট বিচারের দাবি জানিয়ে গিয়েছিলেন।
মায়ের মৃত্যুর পর দীর্ঘ ১২ বছর ধরে এই সন্তানটি পিতৃপরিচয়হীন অবস্থায় বড় হতে থাকে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে সন্তানের ডিএনএ (DNA) পরীক্ষা করা হয়। ডিএনএ টেস্টের অকাট্য প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয় যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিই ওই সন্তানের প্রকৃত জন্মদাতা পিতা।
মামলার সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ, ডিএনএ রিপোর্টের সত্যতা এবং দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন—
"এই রায় সমাজের অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা। মায়ের মৃত্যুর পর দীর্ঘ ১২ বছর একটি সন্তানকে পরিচয়হীন গ্লানি টানতে হয়েছে। ডিএনএ প্রযুক্তির সহায়তায় আজ সেই সন্তান তার অধিকার ও পরিচয় ফিরে পেল।"
রায়ের পর উপস্থিত আইনজীবীরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে শুধু অপরাধীর শাস্তিই নিশ্চিত হয়নি, বরং একটি মাতৃহীন ও পরিচয়হীন সন্তান সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচার আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে।