বিশেষ প্রতিনিধি, মোঃ মনির।।
মোঃ মনির হোসেন://
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে তিনি বাঁশখালীর গুনাগরি এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডে পৌঁছালে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ডা. শফিকুর রহমান এলাকায় প্রবেশ করতেই চারদিক থেকে 'দাদু' ডাক ভেসে আসতে শুরু করে। কেউ ঘরের বারান্দা থেকে, কেউ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র থেকে, আবার কেউ কোমরসমান পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে তাকে স্বাগত জানান এবং অন্যদের খবর দেন। এ সময় স্থানীয় শিশু এবং বয়স্করাও রাস্তার পাশে ভিড় জমায়।
দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডা. শফিকুর রহমানকে নিয়ে 'দাদু' সম্বোধনটি ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এটি অনেকের মুখেই জনপ্রিয়। আজ বাঁশখালীর বন্যাকবলিত এলাকায় তার সফরের সময় সেই ভার্চুয়াল সম্বোধনই যেন বাস্তব দৃশ্যে রূপ নেয়।
সফরকালে জামায়াত আমির গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তিনি লাবুর দোকানের পাশে অবস্থিত একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে যান। সেখানে গত তিন দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় আশ্রয় নেওয়া শতাধিক পরিবারের হাতে নগদ অর্থ ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন তিনি।
শুধুমাত্র আশ্রয়কেন্দ্রে ত্রাণ বিতরণ করেই তিনি ক্ষান্ত হননি। যেসব বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ার কারণে মানুষ বের হতে পারছেন না, সেসব মানুষের খোঁজ নিতে তিনি নিজেই এগিয়ে যান। পাঞ্জাবির নিচের অংশ গুটিয়ে কোমরসমান ঘোলা পানি মাড়িয়ে একের পর এক জলমগ্ন বাড়িতে পৌঁছান ডা. শফিকুর রহমান। কোথাও দরজার সামনে দাঁড়িয়ে, আবার কোথাও ঘরের ভেতরে থাকা শিশু ও বৃদ্ধদের সঙ্গে কথা বলে সান্ত্বনা দেন এবং সাহস জোগান। এ সময় অনেকের হাতে তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তাও তুলে দেন।
ত্রাণ বিতরণ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জাতীয় সংসদের এই বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন,
"আমি এখানে রাজনীতি করতে আসিনি, বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। মানুষের এই চরম দুর্ভোগ কাগজে-কলমে বা দূর থেকে বসে বোঝা যায় না। মাঠে এসে নিজে না দেখলে এই কষ্ট ও আর্তনাদ অনুভব করা সম্ভব নয়।"
তিনি বন্যাকবলিত এই অঞ্চলের মানুষের কষ্ট লাঘবে দ্রুত উদ্ধার অভিযান, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার জোর দাবি জানান।
এ সময় তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।