বিশেষ প্রতিনিধি, মোঃ মনির।।
নিজস্ব প্রতিবেদক://
রাজধানী ঢাকার কদমতলী থানা এলাকায় যৌতুকের দাবিতে ঊর্মি আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। গত ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাতে নতূন জুরাইন আলমবাগ এলাকার একটি বাসায় এই ঘটনা ঘটে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পিতা মোঃ মনির বাদী হয়ে কদমতলী থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। পুলিশ এজাহারটি গ্রহণ করে মামলা নং-২৫ (তারিখ: ১৬/০৭/২০২৬) দায়ের করেছে। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ধারা ৩০/১১/(ক) ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০২১ সালে শরিয়া মোতাবেক মোঃ মনির-এর কন্যা ঊর্মি আক্তারের সাথে নতুন জুরাইন আলমবাগের বাসিন্দা সাইদুজ্জামান মোহনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৫ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই ব্যবসার কথা বলে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঊর্মির পরিবারের কাছে ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল। যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় দীর্ঘ দিন ধরে ঊর্মির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।
বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, গত ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১০:০০ ঘটিকায় যৌতুকের দাবিতে পুনরায় বিরোধ সৃষ্টি হলে আসামিরা ঊর্মিকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে ১নং আসামি (স্বামী) সাইদুজ্জামান মোহন হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে ঊর্মির মাথার পেছনে সজোরে আঘাত করেন। এতে মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়ে ঊর্মি ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশি পদক্ষেপ ও আইনি প্রক্রিয়া
ঘটনার পর গভীর রাতে কদমতলী থানা পুলিশ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন— ১/ নম্বর হলেন নিহতের স্বামী সাইদুজ্জামান মোহন (৩৮), ২/ নম্বর শাশুড়ি জযতারা বেগম (৬০), তিন ৩/ নম্বর ননদ রেশমা বেগম (৩০) ৪/ নম্বর মোঃ নোবেল হোসেন (৩৫) ৫/ নম্বর আসামি সোহেল।
কদমতলী থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরে কদমতলী থানায় মামলা হলে ২/ নম্বর আসামি জয়তারা বেগম, ও ৩/ নম্বর আসামি রেশমা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। এবং ১/ নম্বর আসামি, ৪/ নম্বর আসামি,৫/নম্বর আসামিরা পলাতক রয়েছে। এই তিনজন আসামি দেরকে দ্রুত গ্রেফতার ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ও এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা হওয়ায় এলাকার বাসিন্দারা ও বাদীর পক্ষের আত্মীয়-স্বজনরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি করছেন।