বিশেষ প্রতিনিধি, মোঃ মনির।।
নিজস্ব প্রতিবেদক://
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টিকারী বক্তব্য দিয়ে চর্চায় আসা সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরবিভাগ থেকে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
অনুপস্থিতি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা
বর্তমানে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ইকবাল হোসাইন ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত রয়েছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা পরিচালনা করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, তদন্ত প্রক্রিয়ায় দুই দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হলেও ইকবাল হোসাইন কোনো জবাব দেননি।
তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনস, ১৯৭৯ অনুযায়ী বিষয়টি সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানো হলে পিএসসি বরখাস্তের সুপারিশ প্রদান করে। বর্তমানে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিষয়টি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হয়েছে।
তালিকায় আরও চার পুলিশ কর্মকর্তা
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথিতে ইকবাল হোসাইন ছাড়াও আরও চার উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের অনুমোদনের উল্লেখ রয়েছে। বাকি কর্মকর্তারা হলেন:
ভাইরাল ভিডিওর পটভূমি
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মোবাইল ফোনে ভিডিও দেখানোর সময় ইকবাল হোসাইনের একটি ৪৩ সেকেন্ডের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলমের উপস্থিতিতে তাকে বলতে শোনা যায়, “গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না। এইটা হলো স্যার সবচেয়ে বড় আতঙ্কের এবং দুশ্চিন্তার বিষয়।”
রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে ইকবাল হোসাইনসহ উল্লিখিত পুলিশ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন দ্রুতই জারি করা হবে বলে জানা গেছে।