বিশেষ প্রতিনিধি, মোঃ মনির।।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের অপ্রত্যাশিত বক্তব্যে সরকারের মধ্যেই তৈরি হয়েছে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া। রাষ্টপতির বক্তব্যকে মিথ্যাচার বলে অভিহিত করেছেন আইন উপদেষ্টা। যা শপথ ভঙ্গের শামিল এমনটিও দাবি করেছেন আইন উপদেষ্টা। অন্তর্বতী সরকারের মূল শক্তি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা বলেছেন রাষ্টপতির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্তা নেওয়া হবে তা ছাত্রসমাজই নির্ধারন করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাষ্টপতির পদত্যাগের দাবিতে মশাল মিছিলও করেছেন। রাষ্টপতি সাংবাদিকদের কে ও দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু তাঁর কাছে এ সংক্রান্ত কোনো দালিলিক প্রমান বা নথিপত্র নেই। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান যখন বঙ্গভবনে এলেন তখন জানার চেষ্টা করেছি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন কি না। একই জবাব শুনেছি তিনি পদত্যাগ করেছেন। মনে হয় সে সময় পাননি জানানোর। সবকিছু যখন নিয়ন্ত্রণে এলো তখন এক দিন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এলেন পদত্যাগপত্রের কপি সংগ্রহ করতে। তাকে বললাম, আমিও খুঁজছি। রবিবার জনতার চোখ নামের একটি পত্রিকায় সাক্ষাৎকার ছাপা হওয়ার পর শুরু হয় তোলপাড়। রাষ্টপতির প্রেস উইংয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মীমাংসিত বিষয়ে নতুন করে কোনো বিতর্ক সৃষ্টি করে অন্তর্বতী সরকারকে অস্থিতিশীল কিংবা বিব্রত করা থেকে বিরত থাকতে সবার প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। দেশে যখন ক্রান্তিকাল চলছে সে স্পর্শকাতর সময়ে রাষ্টপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের বক্তব্য জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। জাতির উদ্দেশে কয়েক কোটি মানুষের সামনে টেলিভিশনে যিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের কথা বলেছেন, এ সম্পর্কে প্রশ্ন সৃষ্টি হতে পারে এমন বক্তব্য তাঁর মুখ থেকে বের হওয়া আর যাই হোক দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়। আমরা আশা করব এ ব্যাপারে সৃষ্ট উত্তেজনা উপশমে সব পক্ষ সংযমের পরিচয় দেবেন। দেশের সর্বক্ষেত্রে শুদ্ধাচার ও গনতন্ত্রের চর্চার অব্যাহত রাখতেই অনভিপ্রেত বিতর্ক এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল আচরণ কাম্য।