বিশেষ প্রতিনিধি, মোঃ মনির।।
মূল্যস্ফীতির চাপে হিমশিম খাচ্ছে দেশের নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। তিন মাসে তিনবার নীতি সুদহার বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমানে তা ১০ শতাংশ । একদিকে মনে করা হচ্ছে সুদ হার বাড়ালেই মূল্যস্ফীতি কমবে, এর কোনো বিকল্প নেই। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর স্বল্প সময়ের জন্য ঋণ নেওয়ার এই নীতি সুদহার বাড়তে থাকায় বিনিয়োগ শঙ্কায় পড়েছেন উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে এ পন্থায় বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। সিন্ডিকেটের সব অপকৌশলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে সুদ হার বৃদ্ধির প্রভাবে জিনিসপত্রের দাম আরও বেড়ে যাবে, নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্থ হবে। কারণ শিল্পের কাঁচামাল, মূলধন যন্ত্রপাতি, জ্বালানি সবই আমদানি নির্ভর। নীতি সুদহার বাড়লে ব্যক্তি খাতে ঋণের সুদহার আরও বাড়বে এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে । তাতে বিরুপ প্রভাব পড়বে জাতীয় অর্থনীতিতে। শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত ও বিনিয়োগ স্থবির হলে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি স্বভাবতই থমকে যাবে। অর্থনীতির এই জটিল সমীকরণ সাধারণনের নাবিশ্বাস অবস্থায় তাৎক্ষণিক কোনো মুশকিল আসানের সুখবর দিতে না পারলেও পাঁচ ছয় মাসের মধ্যে সুফল আসবে বলে ধারণা জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদদের। বাস্তবতা হচ্ছে, বিগত সরকার শক্তভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সঠিক ব্যবস্থা নেয়নি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি থাকার পরও বিশাল আকারের বাজেট দিয়েছে। বেসুমার টাকা ছেপে মূল্যস্ফীতির আগুনে আরও ঘি ঢেলেছে। অন্তর্বর্তী সরকার এ ক্ষেত্রে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বিভিন্ন নীতি প্রচেষ্টা গ্রহণ করছে। এগুলো কতটা সুফল বয়ে আনে তা দেখার জন্য ধৈর্য ধরতে হবে। তাদের সময় দিতে হবে। যদি মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা যায়, রিজার্ভ আরেকটু বাড়ে, সুদহার স্বয়ংক্রিয়ভাবেই স্বস্তিদায়ক মাত্রায় চলে আসবে। নতুন বিনিয়োগও আসবে। বিশেষজ্ঞদের এমন বিশ্লেষণে, আশা পুষে রেখে সরকারের প্রতি আমাদের সুপারিশ সাবেক সব ভ্রান্ত নীতি আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেলে শক্ত হাতে বাজার অর্থনীতির হাল ধরুন। অশুভ মতলবে কলকাঠি নাড়া সিন্ডিকেটের দানব দমন করুন। পর্যায়ক্রমে মূল্যস্ফীতি এবং নীতি সুদহার দুই ই যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসুন।