আব্দুল কাইয়ুম খান ://
পরিত্যক্ত ভবনে চলছে খুলনা জেলা রেজিস্টার কার্যালয়ের কার্যক্রম । যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। জেলা রেজিস্টার কার্যালয় সূত্রে জানা যায় , প্রায় ২০০ বছর আগে নির্মিত হওয়ায় পুরো ভবনটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এমন অবস্থায় ঝুকি নিয়েই কার্যক্রম পরিচালনা করছে জেলা রেজিস্টার ও সদর উপজেলা সাব রেজিস্টারসহ সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের দুই শতাধিক কর্মকর্তা, কর্মচারী নকল নবিশ । এছাড়া প্রতিদিন কয়েক'শ সেবা গ্রহীতা এখানে বিভিন্ন সেবা নিতে আসে। এ ভবনে সংরক্ষিত রয়েছে খুলনা জেলার জমা- জমির অনেক মূল্যবান পুরোনো দলিল ও নথিপত্র । সরেজমিন দেখা যায়, ভবনটির বিভিন্ন জায়গা থেকে পলেস্তারা খুলে খুলে পড়ছে । ফাটল ধরেছে মূল ভবনের দেয়ালের বিভিন্ন অংশে। কর্মকর্তা কর্মচারীরা জানান, বৃষ্টি হলেই ভবনটির ছাদ থেকে মূল ভবনের বিভিন্ন অংশে পানি চলে আসে। ফলে মূল্যবান দলিল ও নথিপত্র সংরক্ষণ করা অত্যান্ত জটিল হয়ে পড়েছে। অপরদিকে ভবনের বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল ধরেছে । যেকোনো সময় সম্পূর্ণ ভবনটি ভেঙে পড়তে পারে ।এমন ভবনের মধ্যে প্রতিদিন জীবন ঝুঁকি নিয়েই দাপ্তরিক কাজ করতে হচ্ছে সংস্লিস্টদের। ভবনটি ইতোপূর্বে গণভূর্ত বিভাগ কয়েকবারই পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে । তারপরও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এমন প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করতে হচ্ছে সংস্লিস্টদের। খুলনা জেলা রেজিস্টার ও সদর সাব - রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা সেবাগ্রহিতাদের সাথে আলাপকালে তারা জানান এমন ভবনের নিচে অবস্থান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ । যেকোনো সময় মূল ভবন ভেঙে পড়তে পারে । কাজের প্রয়োজনে এসেছি । সরকারের উচিত খুব দ্রুত এখান থেকে এ কার্যালয়টি স্থানান্তর করা। এমন ঝুঁকিপুর্ন পরিবেশে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে খুলনা জেলা রেজিস্টার মোঃ মিজানুর রহমান বলেন , আমি যোগদানের পর থেকে ভবনের বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠিপত্রের মাধ্যমে বারবার অবগত করে আসছি । ভবনটি গণপূর্ত বিভাগ থেকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যত্র ভাড়া করা ভবন ও দেখা হয়েছে । বরাদ্দ পেলে নতুন ভবনে কার্যালয় স্থানান্তর করা হবে। তিনি আরো জানান ,খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলা ব্যতীত অন্যান্য উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস গুলোর ও নিজস্ব ভবন নাই । সাব রেজিস্টার এর কার্যালয় গুলোতে মানুষের মূল্যবান জমা -জমির দলিল ও নথিপত্র সংরক্ষিত থাকে । প্রত্যেকটি সাব -রেজিস্টার কার্যালয়ে প্রতিদিন অসংখ্য সেবা গ্রহীতা সেবা নিতে আসে। এছাড়া রেজিস্টার ও সাব- রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের মাধ্যমে সরকারের বড় রকম রাজস্ব আয় হয়। ফলে মানুষের মূল্যবান দলিল নথিপত্র সংরক্ষণ , কর্মকর্তা কর্মচারীদের ও সেবা গ্রহীতাদের জন্য মানসম্মত ভবন প্রত্যেকটি উপজেলায় প্রয়োজন। বর্তমান সরকার খুলনা জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয় সহ এ জেলার প্রত্যেকটি উপজেলায় সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের নিজস্ব ভবন স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে এবং খুব দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ হবে এমন প্রত্যাশা খুলনা বাসীর।