ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সংস্কার ও নির্বাচন প্রশ্নে ঐকমত্যে পৌঁছানোর ব্যর্থতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবি পাটি মজিবুর রহমান মঞ্জু

  • আপলোড তারিখঃ 12-02-2025 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 494962 জন
সংস্কার ও নির্বাচন প্রশ্নে ঐকমত্যে পৌঁছানোর ব্যর্থতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবি পাটি  মজিবুর রহমান মঞ্জু ছবির ক্যাপশন: ১

সংগৃহীতখবর ://দেশের ভেতর এবং  বাইরে থেকে পরাজিত-পতিত ফ্যাসিবাদীদের হুমকি-ধামকি-উসকানি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতা, অর্থনৈতিক এবং  রাজনৈতিক অস্থিরতা, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষশক্তিগুলোর অনৈক্যসহ সংস্কার এবং  নির্বাচন প্রশ্নে ঐকমত্যে পৌঁছানোর ব্যর্থতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ও আহ্বান জানান এবি পার্টির নেতারা।দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জনগণ চূড়ান্তভাবে বিরক্ত হওয়ার আগেই নিজেদের দক্ষতা এবং  দায়িত্বশীলতার প্রমাণ দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গত ছয় মাস ছিল প্রতিকূলতাময়। ১৮০ দিনে ১৫০টির মতো আন্দোলন এবং  অবরোধ গণতান্ত্রিকভাবে তারা মোকাবিলা করেছেন। ভারতের ষড়যন্ত্রে সৃষ্ট বন্যা এবং  সাম্প্রদায়িক সংঘাত বাঁধানোর ঝুঁকি, ব্যাপক নিয়োগ-বদলি, প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চিতদের পদোন্নতি এবং  পদায়ন, দুর্নীতিগ্রস্ত প্রকল্প বাতিল, হাজার হাজার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, অন্যায়ভাবে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি, দেউলিয়া হওয়া আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোসহ ফ‍্যাসিবাদের রেখে যাওয়া অনিয়ম এবং  লুটপাটের ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করানোর বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল তাদের কাঁধে। ছয় মাসে এসব কাজের বিরাট ধকল গেছে এই সরকারের ওপর। সেজন্য তাদের অশেষ ধন্যবাদ এবং  দেশবাসীর পক্ষ থেকে তাদের প্রতি আবারও আমাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছি। কিন্তু কথা হলো, সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা কি শুধু এসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? নিশ্চয়ই তা নয়।এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। তারা রাষ্ট্রের মেরামত চেয়েছে। তারা শুধু শাসকের পরিবর্তন নয়, শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছে। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ছিল তাদের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা।

সংস্কার ও নির্বাচন প্রশ্নে গণঅভ্যুত্থানের পক্ষশক্তিগুলোর অনৈক্যে হতাশা প্রকাশ করে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানকে প্রথম দিনই বলেছিলাম, আপনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য একটি টিম গঠন করুন। কিন্তু একজন উপদেষ্টার অনীহার কারণে তিনি সেটা করেননি। যে দলগুলো জুলাই-আগস্টে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করেছে, তারা আজ একে অপরকে হেয় করে কথা বলছেন। অযথা বাকযুদ্ধে জড়িয়ে তারা বিভেদ বাড়াচ্ছেন। এর দায় সরকার এড়াতে পারে না।সম্প্রতি সরকারের নেওয়া ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-কে ‘ডিলেইড ডেভিল হান্ট ইনিশিয়েটিভ’ অভিহিত করে তিনি বলেন, এই অপারেশনে খুব বেশি ফল আসবে বলে মনে হচ্ছে না। সরকারের উচিত ছিল শুরুতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া। প্রথম দিকে এ ব্যবস্থা নিলে বহু ডেভিল পালাতে পারত না। আর চাঁদাবাজি এবং  দখলবাজি অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করা যেত।

সব বাহিনীর সমন্বয়ে সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টার গঠনের বিষয়টিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ আছে, সেটা দেখতে চায়। পলাতক ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা এবং  আওয়ামী লীগের উপর্যুপরি হুমকি-ধামকি-উসকানির বিষয়ে কতিপয় রাজনৈতিক দলের সুবিধাবাদী অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো নেতার দায়সারা গোছের বক্তব্য আমাদের খারাপ লেগেছে। তারা একদিকে সুশীল অবস্থান নিচ্ছেন, অন্যদিকে তাদের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতেই ভাঙচুরসহ বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, গুম, খুন এবং  গণহত্যাকারীদের যেকোনো তৎপরতার ব্যাপারে নমনীয়তার কোনো সুযোগ নেই। বিচার এবং  ক্ষমা চাওয়ার আগে খুনিদের অন্য যেকোনো বক্তব্য এবং  কার্যক্রমের ব্যাপারে আমরা কড়া অবস্থানের পক্ষে, তবে সেটা অবশ্যই হতে হবে ন্যায়সংগত এবং  রাজনৈতিকভাবে বুদ্ধিদীপ্ত।





কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

খাগড়াছড়িতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি রাঙামাটি জেলা কমিটির পক্ষ থেকে এম.এন লারমা’র প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন