ঢাকা | বঙ্গাব্দ

গেজেট আটকাতে ইউএনও-ডিসির নীলনকশা

  • আপলোড তারিখঃ 21-05-2025 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 416839 জন
গেজেট আটকাতে ইউএনও-ডিসির নীলনকশা ছবির ক্যাপশন: ১

মোঃমনিরহোসেন ://

২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারি কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌরসভার নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. এনামুল হককে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল ওই ফলাফল বাতিল করে মোবাইল প্রতীকের প্রার্থী আরিফুর রহমানকে মেয়র ঘোষণা করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ১০ দিনের মধ্যে আরিফুর রহমানকে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেয়। মাস ঘুরতে এলেও সে গেজেট এখনও প্রকাশ করেনি ইসি।  

উল্টো এই গেজেট আটকাতে মাঠে নেমেছেন মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল ইসলাম এবং জেলা প্রশাসক (ডিসি) তৌফিকুর রহমান। নির্বাচন কমিশনের কোনো পরামর্শ ছাড়াই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কেবল মৌখিক নির্দেশনাতেই ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করা হয়েছে।

আপিলে কুষ্টিয়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু আনছারের নাম ব্যবহার করা হলেও আবু আনছারের দাবি এ বিষয়ে তিনি জানেনই না। ইউএনও নিজ উদ্যোগে (স্ব-প্রণোদিত হয়ে) আপিল করেছেন বলেও দাবি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় বলছে, কমিশনের পরামর্শ ছাড়া ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা দপ্তরের আপিল করার সুযোগ নেই। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে— কোন স্বার্থে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন ইউএনও নাজমুল ইসলাম? 

অভিযোগ রয়েছে, গেজেট প্রকাশ ঠেকাতে ইউএনও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে (ইউএনও অফিসের অধীন নির্বাচন অফিসার) প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন। তবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাঈফ আহমেদ নাসিমের কাছে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র না থাকায় তিনি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. এনামুল হকের কাছ থেকে সেগুলো সংগ্রহের চেষ্টা করেন। তবে এই কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি ভুল করে বসেন। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. এনামুল হককে টেলিফোন করতে গিয়ে ভুলবশত আদালতের রায়ে বিজয়ী ‘মোবাইল’ প্রতীকের প্রার্থী আরিফুর রহমানকে ফোন করে ফেলেন। 

এরপর গেজেট আটকাতে ইউএনওর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আরিফুর রহমানের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চান তিনি। এছাড়া ‘ফরম-চ’ দিয়ে সহায়তা করতে বলেন। ফোনালাপটি আরিফুর রহমান রেকর্ড করেন এবং সেটি ঢাকা পোস্টের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

ওই ফোনালাপে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, ‘নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায় স্থগিত করতে আমাদের ফরমাল কপিগুলো লাগবে। আগের ইউএনও নির্বাচনের সব কাগজপত্র বস্তা ভরে নিয়ে গেছেন। আপনারা শতভাগ ভোট কাস্ট করিয়েছেন, মনে পড়ছে না, নাকি? মেয়াদ চলে গেলে তো সে (আদালতের আদেশে যিনি মেয়র হয়েছেন) আর মেয়র হতে পারবে না। এখন আর ভয় পেয়ে লাভ নেই। এই সরকার ডকুমেন্ট চাচ্ছে, দিয়ে দিন। আমি নির্বাচন অফিসার বলছি, কোনো সমস্যা হবে না, এটা কি আপনার বিশ্বাস হচ্ছে না?’

তিনি বলেন, ‘কাগজগুলো দিলে, যিনি আদালত থেকে রায় পেয়েছেন তার রায় অফিসিয়ালি বাতিল হয়ে যাবে। আমার কাছে ওই নির্বাচনের তথ্য নেই। বিশেষ করে ওই দুইটা তথ্য পাচ্ছি না। রায় বাতিল করে আমাদের কোনো লাভ নেই। এভাবে যদি প্রত্যেকটা নির্বাচন বাতিল করে, হারা পার্টি যদি বলে আমি বিজয়ী, তাহলে তো সমাজের প্রতি ভালো ম্যাসেজ যাচ্ছে না। ২০২১ সালের হারা পার্টিরা যদি এখন এসে বলে আমরা বিজয়ী, তাহলে কি আমরা সবাইকে শপথ পড়াবো নাকি? আমরা চাচ্ছি যেভাবে চলছে চলুক, তারপর নতুন নির্বাচন হয়ে ঝামেলা মিটে যাক। পুরোনো আরেকজনকে এনে ওই পদটাতে বসাতে চাচ্ছি না।’

আদালতের রায়ে নির্বাচিত প্রার্থী আরিফুর রহমানকে ফোনালাপে (নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এনামুল হককে ফোন দিতে গিয়ে ভুলবশত আরিফুর রহমানকে ফোনকল) মিরপুর উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, ‘ইউএনও-ই তো আপনার হয়ে আপিল করেছেন। তিনি আপিল করে স্থগিতাদেশ নিয়ে এসেছেন। কিন্তু এখন তো অফিসিয়াল চিঠি নিতে হবে। আপিলের কারণে আগের রায় বাতিল হয়েছে—এটা গেজেট প্রকাশে উল্লেখ করতে হবে। গেজেট প্রকাশে যেসব ডকুমেন্ট লাগে, সে ডকুমেন্টগুলো উনিও (ইউএনও) দিতে পারছেন না, আমিও দিতে পারছি না।’





কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

সায়দাবাদ আন্তঃজেলা ও নগর বাসটার্মিনাল বাস মালিক সমিতির কমিটি ঘোষণা