ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সাব রেজিস্ট্রার অফিসে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেন

  • আপলোড তারিখঃ 26-05-2025 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 413083 জন
সাব রেজিস্ট্রার অফিসে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেন ছবির ক্যাপশন: ১

মতিউল ইসলাম হৃদয়, ক্রাইম রিপোর্টার ://


কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে সম্মানির নামে প্রকাশ্যে চলছে ঘুষ লেনদেন। সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে এসব ঘুষগ্রহণ করেন রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মকর্তারা। সেই ঘুষ গ্রহীতার কাছে সম্মানি আবার কর্মকর্তাদের কাছে সরকারি ফি হিসেবে বিবেচিত হয়।


সোমবার (২৬ মে) সকাল ১১টায় কুমিল্লা সাব রেজিস্ট্রার অফিসে দেখা যায় এমন চিত্র। আমার দেশ প্রতিনিধি প্রকাশ্যে এমন ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ধারন করতে গেলে বাধা আসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের থেকে।


এবং ভিডিওতে অফিসের কর্মকর্তা মোহরার শাহ আলমকে দেখা যায়, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার আমড়াতলি ইউনিয়নের জামবাড়ি গ্রামের গ্রাহক আব্দুল করিমের কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণ করছেন। এমন সময় আব্দুল করিমকে টাকার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, সম্মানি বাবদ এটা দিয়েছি। তখন শাহ আলমকে জিজ্ঞেস করলে তিনি এটাকে একটা ফি হিসেবে উল্লেখ করেন।


তখন সরকারি ফি বাবদ টাকা গ্রহণের রশিদ দেখতে চাইলে তিনি কোনো রশিদ না দেখিয়ে একটি সাদা কাগজের উপরের একটা লেখা দেখিয়ে বলেন এটাই ফি।


পরবর্তীতে সদর সাব রেজিস্ট্রার দীপঙ্কর দাস যখন শাহ আলমকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে যান, তখন তিনি এই টাকা কে তিনটি ফাইলের ফি হিসেবে উল্লেখ করলেও কোন যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারেননি। গ্রহীতাকে উপস্থিত করতে বললে শাহ আলম নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে গ্রহীতাকে নিজের মতো করে বুঝিয়ে নিয়ে আসেন। তখন আব্দুল করিম পূর্বের সম্মানিকে ফি হিসেবে রূপান্তরিত করে ফেলেন।


সেবাগ্রহীতা আব্দুল করিম বলেন, আমার ফাইল আছে তিনটা। দুইটা নিয়েছি আরেকটা পরে নিব। তিনটা ফাইল বাবদ ২০০ টাকা ফি দিয়ে আসছি। আমার আরো কাগজ আছে। অইগুলা আমি পরে নিব।


সদর সাব রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মকর্তা মোহরার শাহ আলম বলেন, এখানে প্রতি কাগজে একটা নির্দিষ্ট ফি আছে। প্রতি ফাইলে ৬০ টাকা করে। ওনি আমার থেকে দুইটা ফাইল নিয়েছে এবং আরেকটি ফাইল নিবে। সে হিসেবে তিনটি ফাইল বাবদ ২০০ টাকা দিয়ে গেছে উনি। 


অভিযোগের বিষয়ে সাব রেজিস্ট্রার দীপঙ্কর দাস বলেন, আমি এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। যিনি এখানের দায়িত্বে আছেন তিনি সকল বিষয়ে কঠোর। আমিও কোনো রকম দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেই না। আমার নিয়ন্ত্রাধীন কেউ যদি কোনো রকম অন্যায় কাজ করে প্রমাণ পাওয়া যায়। আমি সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।


কুমিল্লা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ সোহাগ পারভেজ বলেন, সরকারি ফির অতিরিক্ত টাকা আদায় অন্যায়।


কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি তানজিনা জাহান বলেন, ঘটনাটি যেহেতু সদর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে ঘটেছে। সাব রেজিস্ট্রারকে জানান। উনি ব্যবস্থা নিবেন বলে এ কথা জানা যায়। 




কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

সায়দাবাদ আন্তঃজেলা ও নগর বাসটার্মিনাল বাস মালিক সমিতির কমিটি ঘোষণা