ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মব’ সাজাতেই মিটফোর্ড গেটে সোহাগের নিথর দেহ টেনে এনে উল্লাস করে খুনিরা

  • আপলোড তারিখঃ 14-07-2025 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 259594 জন
মব’ সাজাতেই মিটফোর্ড গেটে সোহাগের নিথর দেহ টেনে এনে উল্লাস করে খুনিরা ছবির ক্যাপশন: ১

এমআই হৃদয়, সিনিয়র ক্রাইম  রিপোর্টার ://

রাজনৈতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা অন্য যেকোনো প্রয়োজনে সোহাগের কাছ থেকে টাকা চাইতো মাহমুদুল হাসান মহিন। লেনদেন করতো সোহাগও। আর সেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক শত্রুতে পরিণত হয় জুনে। চাঁদা ফিক্সড করে চাওয়াতে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ও তর্কাতর্কি হয় গত ৭ জুলাই।

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো সোহাগকে সোজা করতেই মূলত মহিন ও টিটন গাজী পরিকল্পনা করে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার। চাঁদা না দিলে উল্টো পুরো ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ হারাবে সোহাগ।

ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগকে হত্যার পর মামলা থেকে বাঁচতে ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করেন খুনিরা। তাই পূর্বপরিকল্পিতভাবে টেনে-হিঁচড়ে মিডফোর্ড হাসপাতালের তিন নম্বর গেটের সামনে প্রকাশ্যে টেনে উল্লাসে মাতে খুনিরা। লোকজনকে উদ্বুদ্ধ করেছিল হামলায় অংশ নিতে।

পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মিটফোর্ড) চত্বরে ব্যবসায়ী লাল চাঁদ সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যা মামলার প্রাথমিক পুলিশী তদন্তে ও সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

এব্যাপারে কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাসির উদ্দিন বলেন, চাঞ্চল্যকর সোহাগ হত্যার ঘটনায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। 

সোহাগ হত্যার ঘটনায় পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার সাতজন হলেন, মূলহোতা মাহমুদুল হাসান মহিন, তারেক রহমান রবিন, মো. টিটন গাজী, আলমগীর ও লম্বা মনির, সজিব বেপারি ও রাজিব বেপারি।

হত্যাকাণ্ডের পর গ্রেপ্তার মূলহোতা মাহমুদুল হাসান মহিন রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার পরিকল্পনা, সোহাগকে ভাঙারি দোকানে হত্যা না করে মিটফোর্ড চত্বরে ধরে এনে প্রকাশ্যে হত্যা, তারেক রহমান রবিন ও টিটনের সঙ্গে কিলিং মিশন বাস্তবায়নের পরিকল্পনা, অস্ত্র সংগ্রহের পরেও নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা এবং হত্যার পর উল্লাস করার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

ইতোমধ্যে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন তারেক রহমান রহমান রবিন। গ্রেপ্তার টিটনসহ অন্য আসামিরাও পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কারণ ও বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরেছেন।

খোঁজ নিয়ে ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুরান ঢাকার রজনী বোস লেনের কিছুটা ভেতরে সোহাগের দোকান। গত ৭ জুলাই চাঁদা নেওয়ার বিষয়ে সোহাগ ও মহিনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির মতো ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানতে যোগাযোগ করলে সোহাগ পুলিশকে জানায় মহিনের সঙ্গে ঝামেলা মিটে গেছে। কিন্তু মহিন চুপ থাকেনি, টিটনের সঙ্গে পরামর্শ করে উল্টো হত্যার পরিকল্পনা করে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মহিন তদন্ত সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছেন, সোহাগ খুবই একরোখা স্বভাবের ছিল। এলাকার অনেকে সোহাগের ওপরে ছিল ক্ষিপ্ত। দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে চিরতরে সোহাগকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। শুরুতে তাকে দোকানেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, সোহাগ খুনে অস্ত্রও সংগ্রহ করা হয় ছোট মনিরের মাধ্যমে। কিন্তু তারা সাম্প্রতিক মবের ঘটনা দেখে উৎসাহিত হয়। তাদের ধারণা ছিল, সোহাগকে মিটফোর্ডের ৩ নম্বর গেটের সামনে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে যদি অনেকে মিলে উল্লাস করা যায়, তাহলে ঘটনা মব হিসেবেই অন্যদিকে মোড় নেবে। 




কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

খাগড়াছড়িতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি রাঙামাটি জেলা কমিটির পক্ষ থেকে এম.এন লারমা’র প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন