ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার জোরালো উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

  • আপলোড তারিখঃ 03-12-2025 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 34659 জন
বাংলাদেশ পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার জোরালো উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার ছবির ক্যাপশন: ১

মোঃ মনিরহোসেন ://

পুলিশ প্রশাসন নতুন কাঠামো, তদারকি এবং জবাবদিহিতার এক নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে এক দফা আলোচনার পর পুনরায় ‘পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আধুনিকীকরণ, পেশাদারত্ব বৃদ্ধি এবং জনবান্ধব করার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে।

সরকারের দাবি, নতুন কাঠামো পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, পেশাগতভাবে স্বাধীন এবং কার্যক্রমে আরও জবাবদিহিমূলক করবে। এই কমিশন গঠিত হলে পুলিশের জবাবদিহিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার যে প্রথা রয়েছে, তা থেকে অনেকটা মুক্তি মিলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী উপদেষ্টা পরিষদের সভায় সংশোধিত এ খসড়া উত্থাপিত হতে পারে।

পুলিশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কমিশন হবে শক্তিশালী সংবিধিবদ্ধ সংস্থা : থাকবে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি

দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, এই কমিশনকে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে গঠন করা হবে। এ অধ্যাদেশের বিধানাবলি সাপেক্ষে এই কমিশন স্থাবর এবং  অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করতে, অধিকারে রাখতে ও হস্তান্তর করার ক্ষমতা পাবে। এই কমিশনের একটি প্রধান কার্যালয় থাকবে, যা ঢাকার যেকোনো সুবিধাজনক স্থানে অবস্থিত হবে। এছাড়া প্রয়োজন অনুসারে সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে প্রশাসনিক বিভাগ পর্যায়ে কার্যালয় স্থাপন করার ক্ষমতা থাকবে। পাশাপাশি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত স্থায়ী এবং  প্রেষণে নিয়োজিত জনবল দ্বারা কমিশনের দাপ্তরিক কাজ পরিচালিত হবে— এমন প্রস্তাব করা হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব বলেন, সংশোধিত এই খসড়ায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বা হাইকোর্ট বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারককে চেয়ারম্যান করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া, অন্য সদস্যদের মধ্যে থাকবেন সরকারের জাতীয় বেতন স্কেলের (গ্রেড-১) পদমর্যাদার নিচে নন এমন একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এবং মানবাধিকার উন্নয়ন, বাস্তবায়নে কিংবা সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অন্যূন ১৫ (পনেরো) বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন মানবাধিকারকর্মী। এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের নিচে নন, এমন একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে সদস্যসচিব করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। এর বাইরেও কমিশনের সদস্যদের মধ্যে কমপক্ষে দুজন নারী রাখতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এর আগের খসড়ায় কমিশনের সদস্যদের মধ্যে জাতীয় সংসদের সংসদ নেতার (সংসদ সদস্য হতে হবে) একজন প্রতিনিধি এবং সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার (সংসদ সদস্য হতে হবে) একজন প্রতিনিধির সদস্যপদ প্রাপ্তির কথা থাকলেও চূড়ান্ত খসড়ায় সেটি বাদ দেওয়া হতে পারে। এতে কমিশনের ওপর অযাচিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং  পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার যে প্রবণতা রয়েছে, সেটি নিরসন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।




কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

রাঙ্গামাটিতে প্রথমবার, উপস্থাপিত হবে ৭০টির বেশি গবেষণাপত্র