নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানীর জুরাইন রেলগেট ও সংলগ্ন রেললাইন এলাকাটি এখন আর কেবল ট্রেন চলাচলের পথ নয়, বরং পরিণত হয়েছে এক বিশাল কাঁচাবাজার ও হকার্স মার্কেটে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের আনাগোনা এবং রেললাইনের ওপর দোকানপাট বসিয়ে ব্যবসার কারণে স্থানটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ ডেথ ট্র্যাপ বা মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়েছে।
রেললাইনের ওপরেই চলছে কেনাবেচা
চিত্রগুলোতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, রেললাইনের স্লিপার ও পাতের তোয়াক্কা না করেই ঠিক মাঝখানে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বিক্রির পণ্য। কোথাও কাপড়ের দোকান, কোথাও হস্তশিল্পের দোলনা, আবার কোথাও খোলা কড়াইয়ে চলছে ভাজাপোড়া ও খাবারের দোকান। ট্রেন আসার ঠিক আগমুহূর্ত পর্যন্ত এখানে চলে স্বাভাবিক কেনাবেচা। সাধারণ মানুষ ফুটপাত বা নিরাপদ রাস্তা ব্যবহারের সুযোগ না পেয়ে বাধ্য হয়ে রেললাইনের ওপর দিয়েই যাতায়াত করছেন।
উচ্ছেদ ও পুনরায় দখলদারিত্বের খেলা
স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মাঝেমধ্যে এখানে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও তার স্থায়িত্ব হয় বড়জোড় কয়েক ঘণ্টা। উচ্ছেদকারী দল চলে যাওয়ার পরপরই অদৃশ্য ইশারায় আবারও বসে যায় ফুটপাত ও রেললাইনের এই অবৈধ বাজার। বহুতল ভবনের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই রেললাইনে অস্থায়ী ত্রিপল ও ছাউনি দিয়ে স্থায়ী বাজারের রূপ দেওয়া হয়েছে।
পথচারী ও ক্রেতাদের চরম ঝুঁকি
বাজারটিতে আসা সাধারণ মানুষ এবং পথচারীরা সারাক্ষণই এক ধরনের আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। ট্রেন আসার সাইরেন বাজলে হকারদের মালামাল সরানোর হুড়োহুড়ি আর ক্রেতাদের নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দৌড়াদৌড়ির কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। বিশেষ করে শিশু এবং নারীদের জন্য এই এলাকা দিয়ে চলাচল করা এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
রেললাইনের মতো একটি অতি সংবেদনশীল এবং আইনত নিষিদ্ধ জায়গায় কীভাবে প্রতিদিন শত শত দোকানপাট বসছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা। তাদের মতে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী চক্র এবং রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশেই এই অবৈধ বাজার বছরের বছর ধরে টিকে আছে।
এক পথচারীর মন্তব্য: "এখানে আসলে বোঝাই যায় না এটা রেললাইন নাকি কোনো পাইকারি বাজার। ট্রেন আসার আগ পর্যন্ত কেউ নড়তে চায় না। যেকোনো দিন এখানে বড় কোনো বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে।"
জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ এবং পদ্মা সেতু লিঙ্ক প্রজেক্টের ট্রেন চলাচলের কারণে এই লাইনে এখন ট্রেনের ব্যস্ততা আগের চেয়ে অনেক বেশি। তাই বড় কোনো রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা ঘটার আগেই জুরাইনের এই অবৈধ বাজার স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করে রেললাইন ও এর দুই পাশ সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করার জন্য প্রশাসনের জোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী নগরবাসী।