ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কেরু মদ ব্র্যান্ডের ফরেন লিকারসহ (এ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন মালামাল চুরি,।

  • আপলোড তারিখঃ 04-10-2024 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 625458 জন
কেরু মদ ব্র্যান্ডের ফরেন লিকারসহ (এ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন মালামাল চুরি,। ছবির ক্যাপশন: ১

মনির,, রবিউল, হৃদয় :// দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফরেন লিকারসহ (মদ) এ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন মালামাল চুরি, গায়েব ও নানা অনিয়মই যেন এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ নামমাত্র তদন্ত কমিটি করে দোষীদের সাময়িক শাস্তি দিলেও কিছুদিন পর তারা আবার সেই কারবার করে বহাল তবিয়তে থেকে যান। ফলে তৈরি হয়েছে সিন্ডিকেট। গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পরও সিন্ডিকেটটি থেমে নেই।

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে আবারও সক্রিয় হয়েছে চক্রটি। এবার ডিস্টিলারি বিভাগের এক ইলেক্ট্রিশিয়ানের যন্ত্র রাখা বাক্সে (টুল বক্স) মিললো ৬ বোতল ফরেন লিকার ও দুটি খালি বোতল। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে ডিস্টিলারি এরিয়ার পাম্প হাউজের পাশ থেকে এগুলো উদ্ধার হয়।বিষয়টি প্রথমে ধামাচাপা থাকলেও পরে জানাজানি হয়ে যায়। এরপর নড়েচড়ে বসে কর্তৃপক্ষ। গত জুনেও ১৩ হাজার লিটার ডিএস স্পিরিট গায়েব হওয়ার অভিযোগও উঠেছিল ডিস্টিলারি। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর মধ্যে একমাত্র লাভজনক প্রতিষ্ঠান চুয়াডাঙ্গার কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড। এটি একটি সমন্বিত কারখানা। এখানে চিনি, ভিনেগার, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ বিভিন্ন ধরনের স্পিরিট ও দেশি-বিদেশি মদ উৎপাদন করা হয়। মূল পণ্য চিনি হলেও কোম্পানিকে বাঁচিয়ে রেখেছে ডিস্টিলারি পণ্য মদ। সেই লাভের খাত কেটে মঝে মধ্যেই ঘটে চুরির ঘটনা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে চোরাই মদসহ একের পর এক গ্রেফতারের ঘটনা ঘটলেও কেরু প্রশাসন চুরি ঠেকাতে অনেকটাই নির্বিকার বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে কোম্পানিটির কয়েকজন জানান, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষেও বিপুল পরিমাণে মদ চুরির আশঙ্কা রয়েছে। কারণ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই উৎসব ঘিরে কেরুর ফরেন লিকারের চাহিদা থাকে তুঙ্গে।নাম প্রকাশে কোম্পানিটির কয়েকজন জানান, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষেও বিপুল পরিমাণে মদ চুরির আশঙ্কা রয়েছে। কারণ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই উৎসব ঘিরে কেরুর ফরেন লিকারের চাহিদা থাকে তুঙ্গে।কয়েকজন জানান, ডিস্টিলারি বিভাগের কর্মকর্তারা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের যোগসাজশে সুযোগ বুঝে শ্রমিকদের দিয়ে এই চুরির ঘটনাগুলো ঘটান। যেটা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই বেশি হয়েছে।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক (ডিস্টিলারি) রাজিবুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি ডিস্টিলারি বিভাগে আব্বাস আলী নামের একজন ইলেকট্রিশিয়ান তার টুল বক্সের ভেতর ছয়টি ফরেন লিকারের বোতল নিয়ে চুরির চেষ্টা করছেন। তাৎক্ষণিকভাবে আমি, আমাদের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইউসুফ আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে যাই। এসময় টুল বক্স ভেঙে ছয়টি ফরেন লিকার এবং দুটি খালি বোতল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, পুরো ডিস্টিলারি বিভাগ সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা শতভাগ সতর্ক রয়েছি।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট কেরুর প্রধান ফটক থেকে ১০০ লিটার দেশি মদসহ ট্রাকচালক সাইফুল ইসলাম ও তার দুজন সহকারীকে গ্রেফতার করে দর্শনা থানা পুলিশ। আর ১৫ জুলাই রামনগর থেকে ৪০ লিটার দেশি মদসহ বাদল শেখ নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি দর্শনা পৌর এলাকার আনোয়ারপুরে অভিযান চালিয়ে কেরুর তৈরি ৭৫০ মিলিলিটার পরিমাপের সাত বোতল বিলাতি মদসহ দুজনকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এছাড়া ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর রাতে চুয়াডাঙ্গার লোকনাথপুরে তল্লাশিতে কেরুর একটি কাভার্ডভ্যানে ১০ লিটার দেশি মদ পায় ডিবি। এই মদ ব্যারেল থেকে চুরি করা হয়েছিল বলে ওইসময় জানায় পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেরু অ্যান্ড কোম্পানির একজন কর্মচারী জাগো নিউজকে জানান, চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি চার বোতল বিলাতি মদসহ কেরুর পরিবহন বিভাগের চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক রকি হোসেন নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে ধরা পড়েন। সেযাত্রায় কিছুই হয়নি তার। এরপর গত ১৩ আগস্ট রাতে ডিস্টিলারির গুদামের ভেন্টিলেটর দিয়ে ১৩ নম্বর ভ্যাটে (মদ রক্ষণাগার) পাইপ লাগিয়ে দেশি মদ চুরির চেষ্টা করেন তিনি। এরপর পুলিশ তাকে আটক করলেও ‘অদৃশ্য’ কোনো কারণে পার পেয়ে যান।ওই ব্যক্তি আরও বলেন, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এরকম চুরির ঘটনার শেষ নেই। কিছু ঘটনা সামনে এসেছে, তাই সবাই জেনেছে। কিন্তু বেশিরভাগ চুরিই অধরা। এর পেছনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাবেক এমপি আলী আজগর টগর এবং তার ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবুসহ আওয়ামী লীগের দলীয় লোকজনের মদদ ছিল। এ কারণে দিনের পর দিন রাষ্ট্রীয় সম্পদ তছরুপ করেছে এই সংঘবদ্ধ চোরচক্র।গ্রেফতার জনি উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়ন সুন্দুরিয়া পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আখলাক হায়দারের ভাগিনা। স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তিনি। তার বিরুদ্ধে কুমিল্লায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও দমন-পীড়নের অভিযোগ রয়েছে।

যৌথবাহিনী সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ময়নামতি ইউনিয়ন সুন্দুরিয়া পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার ঘর তল্লাশি করে একটি বিদেশি এয়ারগান, ১৪টি দেশীয় তলোয়ার, একটি লোহার তৈরি চাকতি, তিনটি চাকু, পাঁচটি স্টিক ও নগদ সাড়ে ৪ লাখ টাকা জব্দ করা হয়।ওসি মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, যৌথবাহিনী অভিযান পরিচালনা করে জনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ওপর হামলাসহ দুটি মামলা রয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর জন্য প্রস্তুতি চলছে।




কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

খাগড়াছড়িতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি রাঙামাটি জেলা কমিটির পক্ষ থেকে এম.এন লারমা’র প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন