ঢাকা | বঙ্গাব্দ

যথাসময়ে নির্মাণ কাজ সমাপ্ত না হওয়ায় বাধাগ্রস্থ হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই মুল ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল

  • আপলোড তারিখঃ 19-04-2025 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 358775 জন
যথাসময়ে নির্মাণ কাজ সমাপ্ত না হওয়ায় বাধাগ্রস্থ হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম    নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই মুল ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ছবির ক্যাপশন: ১



আঃ হাকিম, বিশেষ প্রতিনিধি 



খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলাধীন পাইকগাছা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ ২০১৮ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ২১ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও বিভিন্ন জটিলতায় এখনো শেষ হয়নি নির্মাণ কাজ। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের ফলে ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া অধিক মুনাফার আশায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি (তার ,সুইচ , বোর্ড,)ও নিম্নমানের কাঠ ব্যবহার করছে দরজার ফ্রেম, দরজার পাল্লায়।


নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানটিতে  দেখা যায়, মূল ভবনের অবকাঠামোর কাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। ভবনটির বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন ,পলেস্তারা ও টাইলসের কাজ চলমান রয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগের সমস্ত তার নিম্নমানের ও নকল এম ই পি ব্র্যান্ডের । অনাবৃত তারের অংশগুলো মরিচা পড়ে শক্ত গেছে। সাধারণত তারের ভেতরের অংশে তামার কয়েলের ব্যবহার থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যে তার ব্যবহার করছে সেই তারের ভেতরের অংশ লোহার কয়েল। দরজার ফ্রেম ও পাল্লায় সেগুন কাঠের ব্যবহার থাকলেও সেখানে ব্যবহৃত কাঠ অত্যন্ত নিম্নমানের। ভবনটি ঘুরে দেখা যায় ভবনের একাধিক অংশে বড় বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ক্যাম্পাস জুড়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ সামগ্রী। ফলে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক চলাফেরায় বিঘ্ন ঘটছে।



প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন সিকদারের সাথে কথা বলে জানা যায়,২১ সালে প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট ও বিভিন্ন জটিলতায় আজও ভবনের কাজ শেষ হয়নি । প্রতিষ্ঠানটিতে ৪'শ এর অধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা করছে। ২ বৎসর যাবৎ প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা ল্যাব রুম না থাকায় ব্যবহারিক ক্লাস করতে পারছে না। যেটা তাদের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ করছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কথা জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন , আমার কাছে কোন সিডিউল নাই এবং কাজের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা  নাই । ফলে নির্মাণ কাজের মনিটরিং ও মান সম্পর্কে আমি কিছুই বলতে পারছিনা।


সার্বিক বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশলী খুলনা মোঃ গোলাম মুত্তাকিন এর সাথে কথা বললে ও ইলেকট্রিক তারের নমুনা দেখালে তিনি বলেন, তারটি আসলেই মানসম্মত নয় এবং ভবনের যেসব অংশ ফাটল ধরেছে সে অংশগুলো যদি মূল ভবনের কাঠামোর অংশে না হয় তাহলে সেটা ঠিক করা যাবে। এবং বৈদ্যুতিক তার ও নিম্নমানের কোন নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করলে সেগুলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবর্তন করা হবে। সকল কাজ মানসম্মত না হলে প্রতিষ্ঠানটি আমাদের পক্ষ থেকে বুঝে নেওয়া হবে না।

তিনি আরো বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ কে এস এ এম টি জে ভি ২০১৮ সালে ১৫কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা নির্মাণ ব্যয়ে কাজ শুরু করে। ২১ সালে নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে যথাসময়ে কাজটি শেষ হয়নি। বর্তমানে ভবনটির ৯৫ শতাংশ কাজ সমাপ্ত হয়েছে, বাকি কাজ চলমান রয়েছে। আশা করছি আগামী জুন মাসের মধ্যেই ভবনটির নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হবে।




কমেন্ট বক্স
notebook

খাগড়াছড়িতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি রাঙামাটি জেলা কমিটির পক্ষ থেকে এম.এন লারমা’র প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন