মোঃ কামরুল ইসলাম , রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি:-
রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাহাড়ের এই জনপদ। বিতর্কিত কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের সড়ক অবরোধ, টায়ারে অগ্নিসংযোগ এবং নজিরবিহীন স্লোগানে রোববার (৩ মে) দিনভর রণক্ষেত্রে পরিণত হয় জেলা শহরের প্রধান প্রধান এলাকা।রোববার বেলা ১১টার দিকে রাঙামাটি পৌরসভা এলাকা থেকে ছাত্রদলের ব্যানারে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বনরুপা পেট্রোল পাম্পসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। এসময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সড়কের মাঝখানে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর ফলে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যাতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পর্যটকরা।বিক্ষোভ চলাকালীন নেতাকর্মীদের স্লোগানে উঠে আসে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অনৈতিক লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ। বিক্ষুব্ধ কর্মীরা উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে থাকেন।
চাঁদা লাগলে চাঁদা নে নাসির, তুই নতুন কমিটি দে, আইফোন লাগলে আইফোন নে নাসির, তুই নতুন কমিটি দে, বিক্ষোভকারীদের দাবি, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির যোগ্য নেতৃত্বকে বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থে এই 'পকেট কমিটি' অনুমোদন দিয়েছেন।আন্দোলনরত ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, সদ্য ঘোষিত কমিটিতে সংগঠনের গঠনতন্ত্র পুরোপুরি লঙ্ঘন করা হয়েছে। তাদের প্রধান অভিযোগগুলো হলো।অছাত্র ও বিবাহিত ছাত্রসংগঠন হওয়া সত্ত্বেও কমিটিতে বড় একটি অংশ অছাত্র ও বিবাহিত।
বিতর্কিত নেতৃত্ব অপহরণ ও চাঁদাবাজির মতো ফৌজদারি মামলার আসামিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে।ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায়ন রাজপথের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কর্মীদের বাদ দিয়ে 'সুবিধাবাদীদের' জায়গা দেওয়া হয়েছে বলে তাদের দাবি।সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। নিরাপত্তার স্বার্থে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।এ বিষয়ে রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ পদধারী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অবিলম্বে এই বিতর্কিত কমিটি বাতিল না করলে রাঙামাটিতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।সর্বশেষ অবস্থা বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও শহরের দলীয় কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।