নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা | ১২ মে, ২০২৬
কুমিল্লার লালমাই পাহাড় কেবল তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের জন্যই পরিচিত নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে স্থানীয়দের মাঝে এক রোমাঞ্চকর রহস্যের খোরাক হয়ে আছে পাহাড়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা এক পরিত্যক্ত কূপ। স্থানীয়দের দাবি, এই কূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বাংলাদেশের ভাগ্য বদলে দেওয়ার মতো এক বিশাল জ্বালানি তেলের ভাণ্ডার।
লোকমুখে প্রচলিত রহস্য
লালমাই পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় আজও ঘুরে বেড়ায় একটি চমকপ্রদ গল্প। বয়োজ্যেষ্ঠদের মুখে শোনা যায়, বহু বছর আগে যখন এই কূপ খনন করা হয়েছিল, তখন সেখানে তেলের বিপুল মজুত পাওয়া যায়। জনশ্রুতি আছে, এই কূপটি যদি পুরোপুরি চালু করা হতো, তবে ভূগর্ভস্থ সংযোগের কারণে প্রতিবেশী দেশ ভারতের তেলও নাকি এই কূপে চলে আসত!
স্থানীয়দের দাবি, এমন আন্তর্জাতিক জটিলতা এবং প্রভাবশালী মহলের অদৃশ্য চাপে রাতারাতি কূপটি সিলগালা করে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। যদিও আধুনিক ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞানে এক কূপ দিয়ে অন্য দেশের তেল টেনে আনার বিষয়টি বেশ জটিল এবং বিতর্কিত, তবুও স্থানীয়দের বিশ্বাসে এই 'রহস্যময়' তত্ত্ব আজও অমলিন।
বর্তমান অবস্থা
সরেজমিনে দেখা যায়, কাঁটাতারের বেষ্টনীতে ঘেরা সেই কূপটি আজও দাঁড়িয়ে আছে। লাল, নীল ও সবুজ রঙের যান্ত্রিক ভাল্ব এবং পাইপগুলো অযত্নে পড়ে থাকলেও সেগুলো যে কোনো বড় প্রকল্পের অংশ ছিল, তা স্পষ্ট বোঝা যায়। কূপটির চারপাশ বর্তমানে বৃষ্টির পানি ও ঝোপঝাড়ে আবদ্ধ হয়ে আছে, যা এলাকাটিতে এক ধরনের গা ছমছমে পরিবেশ তৈরি করেছে।
বাস্তবতা নাকি শুধুই গল্প?
ভূতাত্ত্বিক গবেষকদের মতে, বাংলাদেশের এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় মজুত থাকা স্বাভাবিক হলেও তেলের বিশাল ভাণ্ডার পাওয়ার বিষয়টি সবসময়ই গবেষণার দাবি রাখে। তবে লালমাইয়ের এই পরিত্যক্ত কূপটি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক 'তেল ভাণ্ডারের' তথ্য কখনও নিশ্চিত করা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে কারিগরি জটিলতা বা মজুত পর্যাপ্ত না হওয়ায় খনন কাজ বন্ধ রাখা হয়, যাকে কেন্দ্র করেই হয়তো এই বিশাল তেলের ভাণ্ডারের রূপকথা ডালপালা মেলেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা
কুমিল্লার সাধারণ মানুষের মনে আজও প্রশ্ন—মাটির গভীরে কি সত্যিই ঘুমিয়ে আছে কোনো অমূল্য সম্পদ? যদি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখানে পুনরায় অনুসন্ধান চালানো হয়, তবে হয়তো বেরিয়ে আসতে পারে প্রকৃত সত্য।
দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনে লালমাই পাহাড়ের এই রহস্যময় কূপটি কি সত্যিই কোনোদিন আশীর্বাদ হয়ে ধরা দেবে, নাকি এটি চিরকালই লোককথার এক অমীমাংসিত অধ্যায় হয়ে থাকবে—সে উত্তর সময়ের গর্ভে।