নিজস্ব প্রতিবেদক:
সমাজে যেখানে অপরাধের শাস্তি দিতে মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নেয় কিংবা মারমুখী হয়ে ওঠে, সেখানে এক অনন্য মানবিকতার নজির গড়লেন এক স্থানীয় দোকানদার। দোকানে চুরি করতে এসে হাতেনাতে ধরা পড়া এক নারী চোরের শিশু সন্তানের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, ঘটনার দিন ওই নারী দোকানে এসে চুরির চেষ্টা করার সময় লোকজনের কাছে ধরা পড়েন। উপস্থিত সাধারণ মানুষ যখন ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন, তখনই প্রকাশ পায় এক করুণ বাস্তব। চরম অভাবের তাড়নায় এবং নিজের কোলের সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়েই ওই নারী এমন অপরাধের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।
সাধারণত চুরির ঘটনায় পুলিশের হাতে সোপর্দ করা বা মারধরের ঘটনা ঘটলেও, এই ক্ষেত্রে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে যায়। উপস্থিত অনেকেই যেখানে কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাননি এবং ওই অসহায় শিশুটির দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান, ঠিক তখনই এগিয়ে আসেন খোদ সেই ভুক্তভোগী দোকানদার।
অপরাধের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়ায় তার ভেতরের মানুষের প্রতি ভালোবাসা। তিনি জানান, পরিস্থিতির শিকার হয়ে মানুষ ভুল করতে পারে, কিন্তু নিষ্পাপ শিশুটির কোনো দোষ নেই। তাই শিশুটির সুন্দর ভবিষ্যৎ এবং তার লালন-পালনের যাবতীয় দায়িত্ব তিনি নিজ ইচ্ছায় গ্রহণ করেছেন।
সমাজ সচেতন মহল দোকানদারের এই অভাবনীয় মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অনেকেই বলছেন, শাস্তির চেয়ে ভালোবাসার মাধ্যমে মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার এমন দৃষ্টান্ত সত্যিই বিরল। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, পৃথিবীতে আইন এবং শাস্তির ঊর্ধ্বে এখনো মানবিকতা টিকে আছে।