ঢাকা/চট্টগ্রাম, ১৩ জুন ২০২৬: দেশের মেরিটাইম নিরাপত্তা ও জলবায়ু গবেষণায় এক ঐতিহাসিক বিপ্লব ঘটে গেল। সমুদ্রসীমা সুরক্ষায় ও রিয়েল-টাইম ডাটা সংগ্রহে বঙ্গোপসাগরে নজরদারি বাড়াতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে দেশের প্রথম নিজস্ব ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন। গত ৯ জুন ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির উদ্বোধন করা হয়।
⏳ ২০ ঘণ্টার অপেক্ষা এখন মাত্র ১৫ মিনিটে!
পূর্বে যেকোনো ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা সামুদ্রিক আবহাওয়ার পূর্বাভাসের জন্য বাংলাদেশকে আমেরিকা বা জাপানের মতো বিদেশি স্যাটেলাইট এজেন্সিগুলোর (যেমন NOAA বা IMD) ওপর নির্ভর করতে হতো। সেই ডাটা আমাদের হাতে পৌঁছাতে সময় লেগে যেত প্রায় ২০ থেকে ৩০ ঘণ্টা।
কিন্তু এখন চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন! নতুন এই গ্রাউন্ড স্টেশনের মাধ্যমে সরাসরি ১১টি আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইটের সাথে সংযোগ স্থাপন করে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে বঙ্গোপসাগরের একদম লাইভ বা রিয়েল-টাইম ডাটা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
💰 বাঁচবে লাখ লাখ ডলার, চীনের বড় অনুদান
বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে চড়া মূল্যে ডেটা কেনার দিন এবার শেষ হতে চলেছে। এর ফলে প্রতি বছর সাবস্ক্রিপশন ফি বাবদ বাংলাদেশের সাশ্রয় হবে লাখ লাখ মার্কিন ডলার।
উল্লেখ্য, মোট ৭০ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পে বন্ধুপ্রতিম দেশ চীন বিনামূল্যে দিয়েছে প্রায় ৬০ কোটি টাকার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি। বাকি ১০ কোটি টাকা নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
🚨 রুখে দেওয়া যাবে জলদস্যু ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারী
এই অত্যাধুনিক রাডার এবং স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং প্রযুক্তির মাধ্যমে গভীর সমুদ্রে যেকোনো অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ট্রলার, বিদেশি সীমানা লঙ্ঘন এবং জলদস্যুদের মুভমেন্ট মুহূর্তের মধ্যেই ট্র্যাক করা যাবে। ফলে দেশের ব্লু-ইকোনমি ও নৌ-নিরাপত্তা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
ভিশন ২০৩৫: 'SGSMRS 2035 Master Plan' অনুযায়ী, আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ নিজেকে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় মেরিটাইম ডাটা হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।