ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পুরান ঢাকায় চাঞ্চল্য: আশুরার প্রাঙ্গণে হোসনী দালানে ধারালো ছুরিসহ যুবক আটক, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

  • আপলোড তারিখঃ 21-06-2026 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 155 জন
পুরান ঢাকায় চাঞ্চল্য: আশুরার প্রাঙ্গণে  হোসনী দালানে ধারালো ছুরিসহ যুবক আটক, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছবির ক্যাপশন: ১


স্টাফ ক্রাইম রিপোর্টার মোঃ হারুন 


​ঢাকা: পবিত্র আশুরা উপলক্ষে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হোসনী দালান ইমামবাড়া ও শিয়া মসজিদ নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ এক যুবক প্রবেশের ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে শিয়া মসজিদ  ভেতরে সন্দেহ জনক ভাবে ঘোরাঘুরির সময় হিমেল (২৭) নামে ওই যুবককে ধারালো ছুরিসহ হাতেনাতে আটক করে চকবাজার থানা পুলিশ।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটককৃত হিমেল কামরাঙ্গীরচরের মাদবর বাজার এলাকার ময়না মিয়া ও জেবা বেগমের পুত্র।

​যেভাবে ধরা পড়ল অস্ত্রধারী

​প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, রাতে হোসনী দালান শিয়া মসজিদ ভেতরে একটি দেশীয় ধারালো ছুরি হাতে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিল হিমেল। বিষয়টি নজরে আসে মেহেদী নামে স্থানীয় এক যুবকের। মেহেদী তাৎক্ষণিকভাবে সাহসিকতার সাথে হিমেলকে চ্যালেঞ্জ করে এবং জানতে চায়, "এই অস্ত্র তুমি কোথায় পেলে? এটা এখানে কেন এনেছো?"

​এ সময় হিমেল আমতা আমতা করে জানায়, অস্ত্রটি তার এক বন্ধু তাকে দিয়েছে। কথোপকথনের এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে তীব্র হাতাহাতি সৃষ্টি হয়। ও ধস্তাধস্তির সময় নিজের কাছে থাকা অস্ত্রের আঘাতেই হিমেল সামান্য জখম হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মেহেদী সঙ্গে সঙ্গে শিয়া মসজিদ  দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেয়।

​খবর পাওয়া মাত্রই সেখানে নিয়োজিত প্রশাসনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং এলাকার সাধারণ মানুষের সামনেই ছুরিসহ হিমেলকে আটক করেন। পরে তাকে চিকিৎসার প্রাথমিক ব্যবস্থা শেষে চকবাজার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

​আশুরার নিরাপত্তা: আগামীতে কী ভূমিকা রাখা প্রয়োজন?

​প্রতি বছরের মতো এবারও আশুরার শুরুর দিন থেকেই হোসনী দালানে পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের ভিড় জমতে শুরু করেছে। তবে উৎসবের শুরুতেই এমন অস্ত্রধারী আটক হওয়ার ঘটনাটি ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ও ভাবনার খোরাক জোগাচ্ছে।

​আগামী দিনগুলোতে (বিশেষ করে মূল তাজিয়া মিছিলের দিন) নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও জনসাধারণের নিম্নলিখিত ভূমিকা রাখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা:

​প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও সিসিটিভি নিয়ন্ত্রণ: শিয়া মসজিদ প্রতিটি প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর এবং আর্চওয়ে বসানো বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কন্ট্রোল রুম থেকে ২৪ ঘণ্টা রিয়েল-টাইম মনিটরিং আরও জোরদার করতে হবে।

​সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি: যেহেতু এটি একটি সংবেদনশীল ধর্মীয় জমায়েত, তাই অপরাধী বা নাশকতা কারীদের আগাম পরিকল্পনা নসাৎ করতে হোসনী দালান ও এর আশপাশের এলাকায় সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি (Undercover Surveillance) বহুগুণ বাড়ানো উচিত।

​জনসাধারণের সচেতনতা ও ভলান্টিয়ার টিম: গতকালের ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের একটু সচেতনতাই বড় দুর্ঘটনা রুখে দিতে পারে। হোসনী দালান শিয়া মসজিদ কমিটির নিজস্ব ভলান্টিয়ার বা স্বেচ্ছাসেবক টিমকে আরও সক্রিয় হতে হবে এবং সন্দেহভাজন যেকোনো ব্যক্তি বা বস্তুর ওপর কড়া নজর রাখতে হবে।

​শেষ কথা:

অস্ত্রসহ হিমেল আটকের ঘটনাটিকে পুলিশ বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলেও, এর পেছনে অন্য কোনো বড় চক্র বা নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে চকবাজার থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। আশুরার বাকি দিনগুলোতে প্রশাসন আরও কঠোর ও নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলবে—এমনটাই প্রত্যাশা পুরান ঢাকাবাসীর।




কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

**ঢাকা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে**