স্টাফ ক্রাইম রিপোর্টার মোঃ হারুন
মিরপুরে লেগুনাস্ট্যান্ড দখল এবং চাদাবাজির মিথ্যা সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদে স্টারলিং হিউম্যান হলার (লেগুনা) পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন। আজ ১২ই অক্টোবর ২০২৬ইং সোমবার সকালে রাজধানী ঢাকায় রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত সংবাদ সম্মেললে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী স্টারলিং হিউম্যান হলার লেগুনা মালিক সমিতির প্রধান মো: বিপ্লব হোসেন। আরো উপস্থিত ছিলেন সোয়াস পরিবহনের মালিক মোস্তফা কামাল, স্থানীয় বিএনপির নেতা কালাম মিজি, স্থানীয় শ্রমিক নেতা মো: ইয়াসিন সহ অন্যান্য লেগুনা মালিক ও স্রমিক নেতৃবৃন্দ।
লিখিত বক্তব্য বক্তারা বলেন, আমরা আজ স্টারলিং হিউম্যান হলার (লেগুনা) পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। সম্প্রতি মিরপুরে পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ড দখল এবং গাড়িপ্রতি ৩০০ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে আমাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। আমরা ওই সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াকে চাঁদাবাজি কিংবা স্ট্যান্ড দখল হিসেবে প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়।
গত ৫ অক্টোবর মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় লেগুনা স্ট্যান্ডে কথিত চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলাম। আমাদের অভিযোগ, ওই সময় একটি স্ট্যান্ডে ইয়াকুব আলীসহ কয়েকজন বিএনপির নাম ব্যবহার করে টাকা আদায় করছিলেন। এ সময় স্থানীয় লোকজনের হাতে ইয়াকুব আলী টাকা আদায়ের মানি রসিদসহ আটক হন এবং পরে তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় বলে আমরা দাবি করছি।
আমরা আরও অভিযোগ করছি, ইয়াকুব আলী লেগুনার মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পরিচয় ও বৈধ কাগজপত্রের বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা হোক।
ইয়াকুব আলীর সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লব, সোলেমান দেওয়ান, মহব্বত আলী, পাভেল ভূঁইয়া, তৈয়ব আলী, আলমগীর হোসেন, শামীম ও মজিবর রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও স্ট্যান্ড দখলের অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি।
স্টারলিং হিউম্যান হলার পরিবহনের পক্ষে আমি কালাম মিজি বলতে চাই, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাঁদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার আগে অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা পরিবহন স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ থাকলে মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা উচিত নয়।
আমাদের দাবি, বর্তমানে লেগুনা স্ট্যান্ডে গাড়িপ্রতি ৩০০ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সত্য নয়। বরং আমরা অবৈধ অর্থ আদায় বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সত্য উদ্ঘাটনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। আমরা চাই, ভিডিও ফুটেজ, মানি রসিদ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করা হোক।
আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আমরা চাঁদাবাজির পক্ষে নই, স্ট্যান্ড দখলের পক্ষে নই, কোনো ধরনের সন্ত্রাস ও জোরজবরদস্তির পক্ষেও নই। কেউ চাঁদাবাজি করে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একইভাবে মিথ্যা অভিযোগ তুলে কেউ কাউকে হয়রানি করলে সেটিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
আমাদের দাবি
১. গত ৫ অক্টোবরের ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।
২. লেগুনা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করতে হবে।
৩. ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে আমাদের উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে, যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
৪. আমাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।
৫. মিরপুরের লেগুনা মালিক এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পরিবহন স্ট্যান্ডগুলোকে অবৈধ অর্থ আদায় ও দখলদারিমুক্ত রাখতে হবে।
আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চাই না। আমরা চাই, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলুক এবং প্রকৃত দোষীরা আইনের আওতায় আসুক। আমাদের একটাই দাবি-চাঁদাবাজি বন্ধ হোক, মিথ্যা অভিযোগের অবসান হোক, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য প্রকাশিত হোক এবং লেগুনা মালিক-শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক।