ঢাকা | বঙ্গাব্দ

শ্লীলতাহানির ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে এএসআই সাময়িক বরখাস্ত

  • আপলোড তারিখঃ 22-02-2025 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 472322 জন
শ্লীলতাহানির ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে এএসআই  সাময়িক বরখাস্ত ছবির ক্যাপশন: ১

সংগৃহীতখবর ://ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী চলন্ত বাসে ডাকাতি এবং  নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাতে ঢাকার সাভারের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

একই সঙ্গে বাসে ডাকাতি এবং  শ্লীলতাহানির ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে মির্জাপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আতিকুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি ওইদিন থানার ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

আজ শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, চলন্ত বাসে ডাকাতি এবং  শ্লীলতাহানির ঘটনায় সাভারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ও সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন, একটি ছুরি এবং  ২৯ হাজার ৩৭০ টাকা জব্দ করা হয়। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার লাউতারা গ্রামের শহিদুল ইসলাম ওরফে মহিদুল মুহিত (২৯), শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মো. সবুজ (৩০) এবং  ঢাকার সাভারের টান গেন্ডা এলাকার শরীফুজ্জামান ওরফে শরীফ (২৮)। তাদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম ওরফে মহিদুল মুহিতের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানায় একটি এবং ঢাকা জেলার সাভার মডেল থানায় একটি বাস ডাকাতি মামলাসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘মামলা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন সোর্স ব্যবহার করে তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি বিভিন্ন জেলাব্যাপী বিস্তৃত থাকায় কার্যক্রম পরিচালনা চ্যালেঞ্জিং ছিল। তারপরও আমরা অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। এ ঘটনায় জড়িত অপর অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, বাসে নারী যাত্রীদের ধর্ষণের শিকার হওয়ার বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিকভাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

এর আগে একই ঘটনায় নাটোরের বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়। যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি এবং  নারী যাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ না নেওয়া এবং ঘটনা চেপে রাখার প্রবণতা দেখানোর কারণে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী যাত্রীবাহী বাসে মির্জাপুর এলাকায় তিন ঘণ্টা ধরে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। শ্লীলতাহানি করা হয় দুই নারী যাত্রীর। পরে যাত্রীরা বাসটি আটকে নাটোরের বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের সহায়তা চায়।এ সময় বাস যাত্রীদের হাতে আটক বাসচালক বাবলু, সুপারভাইজার মাহবুব ও হেলপার সুমনকে বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

তবে ঘটনাস্থল টাঙ্গাইল জেলায় হওয়ায় সেখানে মামলা করার পরমার্শ দেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম।পরে কেউ মামলা না করায় পুলিশ ৫৪ ধারায় তাদের আদালতে পাঠালে জামিনে মুক্ত হন সবাই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সময়মতো অবহিত না করায় ওসি সিরাজুল ইসলামকে শুক্রবার ক্লোজড করে পুলিশ অফিসে সংযুক্ত করা হয়।

এদিকে এই ঘটনার তিন দিন পর গত বৃহস্পতিবার রাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। অজ্ঞাত ৮ থেকে ৯ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেছেন বাসযাত্রী নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ওমর আলী।




কমেন্ট বক্স
notebook

খাগড়াছড়িতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি রাঙামাটি জেলা কমিটির পক্ষ থেকে এম.এন লারমা’র প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন