ঢাকা | বঙ্গাব্দ

আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী

  • আপলোড তারিখঃ 20-03-2025 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 412531 জন
আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ছবির ক্যাপশন: ১

মোঃ মনির /এমআই হৃদয় ://ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশ রাত-দিন কাজ করছে। এ কাজ করতে গিয়ে পুলিশকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। নগরবাসীর সহযোগিতায় আমরা সব চ্যালেঞ্জ জয় করে রাজধানীকে সবসময় নিরাপদ রাখতে চাই। অতীতেও আইনশৃঙ্খলাজনিত নানা সংকটে নগরবাসী পুলিশের পাশে দাঁড়িয়েছে। আইন প্রয়োগে সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। সামনের দিনগুলোতেও আমরা নগরবাসীকে সবসময় পুলিশের পাশে চাই। নগরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। যারা আইন হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করবেন বা নেবেন, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগে কোনো রকম দ্বিধা করবে না। এক্ষেত্রে পুলিশ প্রয়োজনে কঠোর হবে।গতকাল বুধবার   কয়েকটি পত্রিকার রিপোর্টারদের সাথে  আলাপকালে ঢাকার পুলিশ কমিশনার এসব কথা বলেন। এই সময় তিনি পুলিশের মনোবল বৃদ্ধি পাওয়া, ছিনতাই কমে আসাসহ রাজধানীর পরিস্থিতি উন্নতি হওয়া এবং পুলিশের নানা তৎপরতার কথা জানান।

শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ঢাকায় পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে বলেই এখন আর ছিনতাইয়ের কথা শোনা যাচ্ছে না। আমাদের টহল এবং  চেকপোস্ট কার্যক্রম এবং পেশাদার ছিনতাইকারীদের ধরতে পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করার জন্যই রাজধানীর পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। আমরা ঢাকা নগরীকে নিরাপদ রাখতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছি। আপনারা জানেন আমরা নগরবাসীকে সুরক্ষিত ও নিরাপদে রাখতে সহায়ক পুলিশ নিয়োগ করেছি। তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আপনারা পুলিশের পাশাপাশি সহায়ক পুলিশকেও অপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন।

ঈদ ঘিরে নগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ঢাকার পুলিশ কমিশনার বলেন, যারা ঈদের ছুটিতে প্রিয়জন, স্বজনের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে যাবেন, তারা অবশ্যই সাবধানে গন্থব্যে যাবেন। যাওয়ার আগে নিজেদের বাসাবাড়ি ঠিকমতো তালা মেরে যাবেন। সম্ভব হলে প্রতিবেশী তথা পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দাকে জানিয়ে যাবেন। যাতে তারা কোনো অস্বাভাবিক কিছু দেখলে পুলিশকে খবর দেন। সে অনুযায়ী পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, রাজধানীর শপিংমলসহ আবাসিক এলাকার নিরাপত্তায় আমরা সহায়ক পুলিশ নিয়োগ করেছি। তারা ইতোমধ্যে দায়িত্ব পালন শুরু করেছে। নগরবাসীকে বলব আপনারা যে কোনো অপরাধমূলক ঘটনায় তাদেরও সহায়তা নেন।

যেসব পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে তাদের বিষয়ে শেখ সাজ্জাত আলী বলেন, যেসব পুলিশ সদস্য অপরাধে জড়াচ্ছে তাদের কঠোরভাবে সাবধান করা হচ্ছে। অনিয়মে জড়ানোর কোনো অভিযোগ পেলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে অপরাধের মাত্রানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মোট কথা পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পর পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে যে সংকট তৈরি হয়েছিল ধাপে ধাপে আমরা তা কাটিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছি। আমরা ফ্যাসিস্ট আমলের পুলিশের মতো আচরণ থেকে বেরিয়ে আসছি। এই জন্য বল প্রয়োগে পুলিশকে খুব সাবধান থাকতে হচ্ছে। বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে মানুষ রাস্তায় নেমে আসছে তাদের যেমন ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে; তেমনি আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে পুলিশকে ঢেলে সাজাতে হচ্ছে। জুলাই-আগস্টের ঘটনায় পুলিশ যে ট্রমার মধ্যে ছিল তা থেকে আমরা পুলিশকে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছি। এখন পুলিশ মনোবল নিয়েই মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছে। ঢাকাবাসীকে নিরাপত্তা দিতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সে অনুযায়ী আমাদের থানা, ফাঁড়ি, গোয়েন্দা পুলিশসহ অন্য বিভাগগুলো কাজ করছে যোগ করেন পুলিশ কমিশনার।




কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

খাগড়াছড়িতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি রাঙামাটি জেলা কমিটির পক্ষ থেকে এম.এন লারমা’র প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন