নিজস্ব প্রতিবেদক :// যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক এবং বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুডবুকে থাকার কারণে সংসদ নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরেও মন্ত্রীপরিষদে জায়গা করে নেন আমিনুল হক।
ক্রীড়াঙ্গন থেকে মন্ত্রী হওয়ার সংখ্যা বাংলাদেশে কম নয়, তবে সাবেক ক্রীড়াবিদদের টেকনোক্র্যাট হিসেবে মন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড কারও নেই। এবার ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে সেই রেকর্ড ভাঙলেন আমিনুল হক।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যে ২৪ জন শপথ নিয়েছেন, তাঁর মধ্যে একমাত্র টেকনোক্র্যাট কোটায় ছিলেন আমিনুল হক (প্রতিমন্ত্রী)। পুরো মন্ত্রিসভায় মোট তিনজন টেকনোক্র্যাট কোটায় ঠাঁই পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশকের আমিনুল হকের ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু। এরপর ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন দেশের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা গোলকিপার। বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ১৯৯৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ৪৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন আমিনুল হক। ছিলেন ২০০৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের নায়ক।
এ ছাড়া, ২০১০ সালের সাউথ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে স্বর্ণপদক জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ক্লাব ক্যারিয়ারেও ছিলেন বেশ উজ্জ্বল। ফরাশগঞ্জ, আবাহনী, মোহামেডান, শেখ জামাল, মুক্তিযোদ্ধাসহ দেশের সব শীর্ষ ক্লাবে দীর্ঘদিন সুনামে সঙ্গে খেলেছেন। ছিলেন ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ফুটবলার।
ফুটবল ক্যারিয়ার শেষে ২০১৩ সালে রাজনীতিতে সক্রিয় হন আমিনুল হক। মাঠে যেমন নেতৃত্ব দিয়েছেন, রাজনীতিতেও হয়ে ওঠেন সংগ্রামী সংগঠক। জেল-জুলুমকে উপেক্ষা করে চলতে থাকে তাঁর রাজনীতি।
বিসিবি ও বাফুফের অভিনন্দন
যুব এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় আমিনুল হককে অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বাফুফে জানায়, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও উষ্ণ অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি। আপনার নিষ্ঠা, অসামান্য কর্মদক্ষতা, নেতৃত্বগুণের মাধ্যমে ক্রীড়া ক্ষেত্রে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আপনি সফল হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আপনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, মেধা এবং প্রজ্ঞার মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াঙ্গন আরও গতিশীল হবে এবং বাংলাদেশ ক্রীড়াঙ্গনে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে এই কামনা করছি।’