ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সিএমপি ডিবি পশ্চিমের অভিযানে ৮ কেজি হেরোইন, ১৪ হাজার ইয়াবা ও বাস জব্দ, গ্রেফতার ৩

  • আপলোড তারিখঃ 07-04-2026 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 74 জন
সিএমপি ডিবি পশ্চিমের অভিযানে ৮ কেজি হেরোইন, ১৪ হাজার ইয়াবা ও বাস জব্দ, গ্রেফতার ৩ ছবির ক্যাপশন: ১

মোঃমনিরহোসেন ://চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা পশ্চিম বিভাগের বিশেষ অভিযানে ৮ কেজি হেরোইন, ১৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি যাত্রীবাহী বাস জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকারও বেশি বলে জানিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, জব্দকৃত মাদক কক্সবাজার থেকে সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্মানিত পুলিশ কমিশনারের দিকনির্দেশনায় মহানগর গোয়েন্দা পশ্চিম বিভাগের একটি চৌকস টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ২টা ৫৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, কক্সবাজার থেকে একটি হানিফ পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য বহন করে চট্টগ্রামের দিকে আনা হচ্ছে। সংবাদের গুরুত্ব বিবেচনায় গোয়েন্দা দল দ্রুত কর্ণফুলী থানাধীন পটিয়া ক্রসিং এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পের সামনে অবস্থান নেয় এবং সন্দেহভাজন বাসটির গতিবিধি নজরদারিতে রাখে।


এক পর্যায়ে বর্ণিত বাসটি সেখানে পৌঁছালে আভিযানিক টিম সেটিকে থামার সংকেত দেয়। কিন্তু বাসটি থামানোর পরিবর্তে দ্রুতগতিতে শহরের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে গোয়েন্দা দল ধাওয়া দিয়ে বাসটি আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় বাসে থাকা ড্রাইভার, সুপারভাইজার ও হেলপারকে আটক করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটকের পর থামার সংকেত অমান্য করে পালানোর কারণ জানতে চাইলে তারা জানায়, গাড়িতে অবৈধ মাদকদ্রব্য থাকায় তারা বাসটি না থামিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল।


পরবর্তীতে উপস্থিত যাত্রীদের সামনে বাসটি তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে বাসের পেছনের অংশে বডির নিচে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ১ নম্বর আসামি মো. আলী হোসাইন প্রকাশ আলী হোসেন, ৪২, ২ নম্বর আসামি মো. আজিম, ৪০, এবং ৩ নম্বর আসামি মুহাম্মদ রাশেল, ৪৯, তাদের দেখানো মতে এবং নিজ হাতে বের করে দেওয়া মতে মাদকগুলো উদ্ধার করা হয়।


উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে হলুদ রঙের কসটেপে মোড়ানো ৮টি প্যাকেট, যার প্রতিটি প্যাকেটে ১ কেজি করে মোট ৮ কেজি হেরোইন। জব্দ হওয়া এই হেরোইনের আনুমানিক মূল্য ৮ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া হলুদ কসটেপে মোড়ানো ৭০টি নীল রঙের জিপার প্যাকেটের ভেতরে প্রতিটিতে ২০০ পিস করে মোট ১৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। জব্দ হওয়া ইয়াবার মোট ওজন ১ কেজি ৪০০ গ্রাম এবং এর আনুমানিক মূল্য ৩৫ লাখ টাকা। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসও জব্দ করা হয়েছে।


প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে, কক্সবাজারে অজ্ঞাতনামা ২ থেকে ৩ জন ব্যক্তির কাছ থেকে তারা এসব হেরোইন ও ইয়াবা সংগ্রহ করে। পরে অত্যন্ত গোপন কৌশলে সেগুলো বাসের বডির ভেতরে লুকিয়ে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় অজ্ঞাতনামা আরও ২ জন ব্যক্তির কাছে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পুলিশের দাবি, গ্রেফতাররা পেশাদার মাদক কারবারি এবং এর পেছনে একটি বড় নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। সীমান্তঘেঁষা এলাকা, উপকূলীয় রুট, মহাসড়ক এবং পরিবহন খাত ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্রগুলো বিভিন্ন কৌশলে মাদক দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সরিয়ে নিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একের পর এক অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার ও কারবারিদের গ্রেফতার করলেও চক্রগুলো নতুন নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করে তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী যানবাহন, কুরিয়ার ব্যবস্থা এবং গোপন চেম্বার ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের প্রবণতা উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।






কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

রাজধানী গেন্ডারিয়াতে পুলিশ এ্যাসল্ট মামলার অন্যতম প্রধান আসামী মোঃ সুমন হোসেন (৩০) কে গেন্ডারিয়া হতে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০