নাটোর প্রতিনিধি:
অনলাইন জুয়া খেলার নেশা মেটাতে এবং বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন এক যুবক। সাড়ে তিন লাখ টাকা ছিনতাই হওয়ার মিথ্যা নাটক ফেঁসে গিয়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশের খাঁচায় বন্দি হতে হলো আর্জেন্টিনার জার্সি পরিহিত স্বাধীন হোসেন (২১) নামের ওই যুবককে।
নাটোর সদর থানা পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করে তাকে গ্রেফতার করেছে।
ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত স্বাধীন হোসেন নাটোর সদর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি গত ২ জুলাই (বা সাম্প্রতিক তারিখে) দাবি করেন যে, ব্যবসা বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে তোলা সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে মারধর করে টাকাগুলো ছিনিয়ে নিয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্বাধীন নিজে বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় একটি অজ্ঞাতনামা ছিনতাইয়ের অভিযোগ দায়ের করেন।
তদন্তে পুলিশের সন্দেহ ও নাটক ফাঁস
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই নাটোর সদর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তদন্তে নামে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে পুলিশের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। স্বাধীন যেভাবে ছিনতাইয়ের বর্ণনা দিচ্ছিলেন, তার সাথে পারিপার্শ্বিক তথ্যের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরবর্তীতে পুলিশ স্বাধীনের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট যাচাই শুরু করে। তীব্র জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একপর্যায়ে স্বাধীন ভেঙে পড়েন এবং স্বীকার করেন যে, প্রকৃতপক্ষে কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনাই ঘটেনি। পুরো বিষয়টি ছিল তার সাজানো একটি নাটক।
জুয়ার নেশা ও টাকা আত্মসাৎ
জিজ্ঞাসাবাদে স্বাধীন পুলিশকে জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় (Online Gambling) আসক্ত। জুয়া খেলতে গিয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ টাকা হেরে যান এবং বাজারে তার অনেক টাকা ঋণ হয়ে যায়। সেই ঋণের টাকা পরিশোধ করা এবং নতুন করে জুয়া খেলার পুঁজি জোগাড় করতেই তিনি এই সাড়ে তিন লাখ টাকা আত্মসাতের পরিকল্পনা করেন। পরিবার ও পাওনাদারদের চোখ ফাঁকি দিতেই তিনি এই নিখুঁত ‘ছিনতাই নাটক’ সাজিয়েছিলেন।
পুলিশের বক্তব্য ও আইনি ব্যবস্থা
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান,
"ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি তদন্ত করি। কিন্তু তদন্তে নেমে ঘটনার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। উল্টো অভিযোগকারীর কথায় নানা অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে সে টাকা আত্মসাৎ ও জুয়ার দেনা মেটানোর জন্য এই মিথ্যা নাটক করার কথা স্বীকার করে। তার হেফাজত থেকে আত্মসাৎকৃত টাকার একটি বড় অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।"
মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করা এবং জালিয়াতির অপরাধে স্বাধীন হোসেনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আজ তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।