নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর প্রকাশিত: ০৪ জুলাই ২০২৬
গাজীপুর: গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা এলাকায় সাংবাদিকতার পরিচয় ও ভুয়ো সাইনবোর্ড ব্যবহার করে গড়ে ওঠা এক ভয়ংকর 'হানি ট্র্যাপ' (নারীঘটিত ফাঁদ) ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেটের পর্দা উন্মোচন করেছে পুলিশ। এই চক্রের মূল হোতা ও সিএনজি চালক মিলনসহ মোট তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একটি সুনির্দিষ্ট ছিনতাই মামলার সূত্র ধরে গাছা থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
১. হাসান (ছিনতাই ও ফাঁদ পাতার অন্যতম সহযোগী)
২. মিলন (চক্রের মূল হোতা, সিএনজি চালক এবং ভুয়ো সাংবাদিক পরিচয়ধারী)
৩. হৃদয় (ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মাঠ পর্যায়ের সক্রিয় সদস্য)
যেভাবে চলতো এই ‘হানি ট্র্যাপ’ ও চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। তারা মূলত এক বা একাধিক নারীর সহায়তায় বিত্তশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী বা পথচারীদের টার্গেট করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে আনতো। পরবর্তীতে সেখানে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভুয়ো সাংবাদিকের দল ক্যামেরা এবং অন-লাইন পোর্টালের লোগো নিয়ে হাজির হতো।
সেখানে ভুক্তভোগীদের নারীঘটিত নানা অপবাদে ফাঁসিয়ে আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি ধারণ করা হতো। এরপর সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এবং পরিবারকে জানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা দাবি করা হতো। লোকলজ্জার ভয়ে অনেক ভুক্তভোগীই তাদের লাখ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হতেন।
ছিনতাই মামলার জালে যেভাবে আটকা পড়ল চক্রটি
সম্প্রতি এক ভুক্তভোগী এই চক্রের ব্ল্যাকমেইল ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে গাছা থানায় একটি নিয়মিত ছিনতাই মামলা দায়ের করেন। মামলা প্রাপ্তির পরপরই গাছা থানা পুলিশ এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় একটি চৌকস টিম মাঠে নামে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় গাছা থানা এলাকা থেকে একে একে এই তিন অপরাধীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত টাকা ও অপরাধে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
এই বিষয়ে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সংবাদমাধ্যমকে জানান, "সাংবাদিকতার মতো একটি পবিত্র পেশার আড়াল ব্যবহার করে এরা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে আসছিল। এদের মূল অস্ত্র ছিল 'হানি ট্র্যাপ' এবং সামাজিক মর্যাদার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং করা। আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসার পর আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মূল হোতা চালক মিলনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছি।"
তিনি আরও জানান, এই চক্রের সাথে আর কোনো নারী বা অন্য কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে জোর তদন্ত চলছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
এই কুখ্যাত চক্রটি গ্রেফতার হওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও প্রকৃত সংবাদকর্মীদের মাঝে স্বস্তি নেমে এসেছে। স্থানীয়রা এই চক্রের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।