অনলাইন ডেস্ক
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬
ঢাকা: স্বাস্থ্য খাতে যেকোনো ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অবহেলার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, চিকিৎসাসেবা নিয়ে কোনো ধরনের নয়ছয় বরদাশত করা হবে না। দুর্নীতি প্রমাণিত হলে কেবল শাস্তিমূলক বদলি নয়, সরাসরি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে।
আজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত দেশের সার্বিক চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘বদলি কোনো শাস্তি হতে পারে না’
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, "বিগত দিনে দেখা গেছে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী দুর্নীতি করলে তাকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বদলি করে দেওয়া হতো। কিন্তু আমি মনে করি, বদলি কোনো শাস্তি হতে পারে না। এক জায়গার চোর বা দুর্নীতিবাজকে অন্য জায়গায় পাঠালে সে সেখানে গিয়েও একই কাজ করবে। তাই এখন থেকে নীতি স্পষ্ট—দুর্নীতি করলে বদলি নয়, সরাসরি চাকরিচ্যুত করা হবে এবং প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।"
তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন হয়। সাধারণ মানুষ হাসপাতালে এসে সেবা পাবে না, আর কর্মকর্তা-কারা দুর্নীতিতে মেতে থাকবেন—তা আর চলতে দেওয়া যাবে না।
কেনাকাটা ও টেন্ডারে শতভাগ স্বচ্ছতার নির্দেশ
স্বাস্থ্য খাতের চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটা ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অতীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অনিয়মের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে বাজেট নষ্ট করা যাবে না। যা কেনা হবে, তা যেন জনগণের কাজে আসে এবং তার শতভাগ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।"
এ সময় তিনি দেশের সকল সরকারি হাসপাতালের পরিচালক ও সিভিল সার্জনদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, হাসপাতালের দামি যন্ত্রপাতি নষ্ট করে রেখে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানোর যে ‘কমিশন বাণিজ্য’ চলে, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। কোনো হাসপাতালের যন্ত্রপাতি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অচল করে রাখা হলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করার তাগিদ
মফস্বল ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, "সরকার চিকিৎসকদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়াচ্ছে। গ্রামীণ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ যাতে চিকিৎসা পায়, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কিন্তু অনেক চিকিৎসক কর্মস্থলে না থেকে ঢাকা বা বড় বড় শহরে লবিংয়ে ব্যস্ত থাকেন। এই সংস্কৃতি এবার বন্ধ হতে হবে। যার যেখানে পোস্টিং, তাকে সেখানেই থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অন্যথায় চাকরি ছেড়ে দেওয়ার বিকল্প থাকবে না।"
তদারকি জোরদার করার ঘোষণা
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য খাতের এই শুদ্ধি অভিযান সফল করতে খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ বা ঝটিকা অভিযানের টিম গঠন করা হচ্ছে। এই টিম কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করবে এবং অনিয়ম পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।
সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সকলেই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং স্বাস্থ্য খাতের গৌরব ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।