ঢাকা | বঙ্গাব্দ

১৮ বছরের বিশ্বাসের নির্মম পরিণতি: টাঙ্গাইলে গৃহবধূ নাজমা আলম হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ

  • আপলোড তারিখঃ 06-07-2026 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 3 জন
১৮ বছরের বিশ্বাসের নির্মম পরিণতি: টাঙ্গাইলে গৃহবধূ নাজমা আলম হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ ছবির ক্যাপশন: ১


নিজস্ব প্রতিবেদক | টাঙ্গাইল

​যাঁকে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে নিজের পরিবারের একজন ভাবতেন, যাঁর সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছেন, শেষ পর্যন্ত তাঁর হাতেই নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হলো টাঙ্গাইলের গৃহবধূ নাজমা আলমকে (৫) কে। দীর্ঘদিনের চেনা ও বিশ্বাসী মানুষ, স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন মোশাররফ হোসেনের হাতুড়ির আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে একটি পরিবার। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর স্বর্ণালংকার লুট, পুলিশের তদন্তে সত্য উদঘাটন এবং খুনি গ্রেপ্তার—সব মিলিয়ে এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

​চায়ের টেবিলে আপ্যায়ন, তারপরই অতর্কিত হামলা

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত নাজমা আলম টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় ভেটেরিনারি চিকিৎসক শফিউল আলম ওরফে শাহীনের স্ত্রী। ঘটনার দিন সকালে চিকিৎসক শফিউল আলম তাঁর পেশাগত কাজে বাইরে গেলে বাসায় একাই ছিলেন নাজমা আলম। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে সুসম্পর্ক থাকায় এবং গত ৩ বছর ধরে নিয়মিত এই বাসায় খাবার খাওয়ার কারণে মুয়াজ্জিন মোশাররফকে বিন্দুমাত্র সন্দেহ করেননি তিনি। এমনকি ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও মোশাররফকে পরম যত্নে চা-বিস্কুট দিয়ে আপ্যায়ন করেন নাজমা আলম।

​কিন্তু সেই সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে মোশাররফ বাসার ভেতর থেকে একটি হাতুড়ি বের করে নাজমা আলমের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। আঘাতের সাথে সাথে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে, রক্তাক্ত ও জীবন্ত অবস্থাতেই তাঁকে সোফার সাথে বেঁধে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

​লাশ ফেলে স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট

​হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর নাজমা আলমের হাত ও গলায় থাকা মূল্যবান স্বর্ণালংকার খুলে নিয়ে পালিয়ে যায় মোশাররফ। পরবর্তীতে লুণ্ঠিত সেই স্বর্ণালংকার সন্তোষ নামের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গৃহকর্মী বাসায় এসে মূল দরজা চাপানো অবস্থায় দেখতে পান এবং ভেতরে সোফার ওপর হাত বাঁধা রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় নাজমা আলমকে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন।

​খুনের পর অভিনব নাটক: মিছিলে শামিল খুনি নিজেই!

​এই হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে লোমহর্ষক দিক হলো মোশাররফের দ্বিমুখী আচরণ। নৃশংস এই খুনের পর যখন টাঙ্গাইলের সাধারণ মানুষ ও এলাকাবাসী রাস্তায় নেমে হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে, তখন খুনি মুয়াজ্জিন মোশাররফও সেই মিছিলে যোগ দিয়ে উচ্চকণ্ঠে বিচারের দাবি জানান। শুধু তাই নয়, ধরা পড়ার আগ পর্যন্ত তিনি নিয়মিত মসজিদে আজান দিয়েছেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও আদায় করেছেন, যেন কেউ তাঁকে কোনোভাবেই সন্দেহ করতে না পারে।

​পুলিশের নিখুঁত তদন্তে সত্য উন্মোচন

​ঘটনার পর তদন্তে নামে পুলিশ। নিখুঁত ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে খুব দ্রুতই এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটিত হয়। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ইতোমধ্যেই মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারী মুয়াজ্জিন মোশাররফ এবং চোরাই সোনা কেনার অপরাধে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষকে গ্রেপ্তার করেছে। হাতে গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি মোশাররফ এবং উদ্ধারকৃত লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মোশাররফ নিজের অপরাধ ও হত্যার দায় সম্পূর্ণ স্বীকার করেছেন।

​এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিনের পরিচিত ও ধর্মীয় লেবাসধারী একজন মানুষের এমন নৃশংসতা সমাজকে এক বড় বার্তা দিয়ে গেল—অন্ধবিশ্বাস যেকোনো মুহূর্তেই ডেকে আনতে পারে চরম বিপর্যয়।




কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

নোংরামিকে কাউন্টার দিতে আরেক নোংরামি চলছে': দীপ্তি চৌধুরীর কড়া পোস্ট