নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা//
আপডেট: ১০ জুলাই, ২০২৬
রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় হঠাৎ করেই ভারী বুলডোজার ও উচ্ছেদকারী যান্ত্রিক যানবাহনের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ সকাল থেকেই টার্মিনাল ও এর আশেপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে সিটি কর্পোরেশনের বেশ কিছু ভারী বুলডোজার (হুইল লোডার) অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
হঠাৎ করে এই ভারী যন্ত্রপাতির আনাগোনা দেখে সাধারণ যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে নানামুখী কৌতুহল ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
অভিযানের মূল কারণসমূহ
সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, এই বুলডোজারগুলো মূলত দুটি বিশেষ কারণে মোতায়েন করা হয়েছে:
- অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ: সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের আশেপাশের ফুটপাত ও মূল সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট এবং অস্থায়ী কাউন্টারগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য এই প্রস্তুতি।
- টার্মিনালের আধুনিকায়ন ও সংস্কার: ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে টার্মিনালের অভ্যন্তরীণ রাস্তা সংস্কার এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য ভারী যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে।
- যানজট নিরসন: টার্মিনালের প্রবেশ ও বাহির পথে অবৈধ পার্কিং এবং হকারদের দখলের কারণে সৃষ্ট তীব্র যানজট থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে এই উদ্যোগ।
ঘটনাস্থলে থমথমে পরিস্থিতি, মোতায়েন পুলিশ
সরেজমিনে দেখা যায়, সায়েদাবাদ ফ্লাইওভারের নিচে এবং বাস কাউন্টারগুলোর সামনে সিটি কর্পোরেশনের বড় বড় হলুদ রঙের ক্যাট (CAT) লোডার ও বুলডোজার দাঁড়িয়ে আছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং উচ্ছেদ অভিযান সফল করতে ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
"টার্মিনালকে সুশৃঙ্খল করতে এবং জনগণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।"
— ডিএসসিসি সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা
পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া
হঠাৎ বুলডোজারের উপস্থিতিতে ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে উচ্ছেদ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেক ব্যবসায়ীকে তড়িঘড়ি করে তাদের মালামাল সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। তবে সাধারণ যাত্রী এবং বাস চালকেরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, সায়েদাবাদ মোড়ের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা সম্ভব হলে ঢাকা শহরের এই অন্যতম প্রবেশদ্বারে যানজট অনেকটাই কমে আসবে।
সিটি কর্পোরেশনের এই অভিযান আজ রাত পর্যন্ত নাকি আগামী কয়েকদিন ব্যাপী চলবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।