স্টাফ রিপোর্টার, এখন সংবাদ ২৪:
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিচয়ে বাদীর কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মোঃ মোজাম্মেল হক ওরফে কবির (৫০) নামে এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), চট্টগ্রাম জেলা।
গ্রেফতারকৃত মোজাম্মেল হক নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানার গৌরীপুর এলাকার বেশারত উল্লাহর ছেলে। নোয়াখালীর সুধারাম থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতারের পর তার হেফাজত থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত মোবাইল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, পিবিআই, সিআইডি কিংবা ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয়ে বিভিন্ন মামলার বাদীদের বিশ্বাস অর্জন করে গাড়ি ভাড়া ও পক্ষে রিপোর্ট দেওয়ার কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল একটি চক্র। বিষয়টি পিবিআইয়ের নজরে আসলে পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার এসআই (নিঃ) মোঃ আবু সুফিয়ান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা প্রতারকদের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় একটি মামলা (মামলা নং-১৪, তারিখ: ২৩/০৯/২০২৬, ধারা: ১৭০/৪১৯/৪২০/৪০৬ পেনাল কোড) দায়ের করেন।
মামলাটি পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা স্ব-উদ্যোগে অধিগ্রহণ করে প্রতারক চক্রটিকে গ্রেফতারে অভিযানে নামে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) রবি চন্দ্র দাশের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল গোপন তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে মামলা রুজুর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চক্রের মূলহোতা মোজাম্মেলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত মোজাম্মেল হক জানায়, তিনি আগে ইউনিলিভার গ্রুপে চাকরি করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চাকরি হারালে তিনি চট্টগ্রাম আদালতে যাতায়াত শুরু করেন এবং আদালতের মুহুরি হিসেবে কাজ নেন। সেখান থেকে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের মাধ্যমে বিভিন্ন মামলার বাদীদের মোবাইল নম্বর ও আরজির কপি সংগ্রহ করতেন। এরপর পিবিআই বা ডিবি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মামলার রিপোর্ট পক্ষে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে গাড়ি ভাড়া ও তদন্ত খরচের কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিতেন।
একটি সিআর মামলার বাদীর কাছ থেকে তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয়ে একইভাবে ৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন মোজাম্মেল। পরে গ্রেফতারের পর বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামী ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
এ বিষয়ে পিবিআই জানায়, এই প্রতারক চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং তারা একইভাবে আরও কতজনের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।