নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন কুতুবখালী কাজলা বউবাজার এলাকায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ ও বাধা দেওয়ায় সাব্বির আহমেদ (ম্যাস) নামে এক তরুণ সাংবাদিককে নৃশংসভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা। ভুক্তভোগী সাব্বির আহমেদ যাত্রাবাড়ী মডেল প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত।
থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগীর দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুতুবখালী কাজলা বউবাজার সংলগ্ন এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই উন্মুক্ত মাদক বিক্রির স্থান হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়রা ও সাংবাদিক সাব্বির আহমেদ এলাকাটিকে মাদকমুক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। এরই জেরে গত রোববার (০১ নভেম্বর ২০২৬) রাত আনুমানিক ১:৩০ মিনিটে বাসায় ফেরার পথে স্থানীয় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সজল ও তার সহযোগীরা সাব্বির আহমেদের মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেয়। ওই সময় সজল হুমকি দিয়ে বলে, “পারলে আমার কিছু করিস। থানা তো পাশেই, মাদক ব্যবসা কীভাবে করি বুঝিস না?”
রাতের পরিস্থিতি বিবেচনা করে সাংবাদিক সাব্বির আহমেদ তখন বাসায় ফিরে যান। পরদিন সোমবার (০২ নভেম্বর ২০২৬) সকালে মাদক ব্যবসায়ী চক্রটি ফোন করে তাদের ভুলের কথা স্বীকার করে এবং মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার জন্য তাকে অনুরোধ করে। ফোন পেয়ে দুপুর আনুমানিক ১:৪০ মিনিটে তিনি মোটরসাইকেল আনতে গেলে সজলসহ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী তার শার্টের কলার ধরে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় এবং চাঁদা দাবি করে বলে, “মাদক ব্যবসা করব না, টাকা দে।”
কথা বলার পরপরই মাদক ব্যবসায়ীরা ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে সাব্বির আহমেদের দুই পায়ে এলাপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। পরে তাকে আটকে রেখে পিঠে ও দুই হাতে আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ বার সজোরে আঘাত করা হয়। এতে তার পুরো শরীর ক্ষতবিক্ষত ও রক্তজমাট বেঁধে যায়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার হয়ে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গিয়ে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। চিকিৎসা শেষে এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাব্বির আহমেদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যাত্রাবাড়ী থানা থেকে মাত্র ৪০০-৫০০ মিটার দূরে ২৪ ঘণ্টা প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা হয়। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে মাদক বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা শুনি, কিন্তু বাস্তবে এর প্রয়োগ কোথায়? যেখানে থানার নাকের ডগায় সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের নৃশংস হামলা হয়, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”
যাত্রাবাড়ীতে থানার এত কাছাকাছি এলাকায় ২৪ ঘণ্টা মাদক বিক্রি ও সংবাদকর্মীর ওপর এমন বর্বর হামলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক সমাজের নেতৃবৃন্দ। তারা অবিলম্বে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সজলসহ হামলায় জড়িত সব সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
(এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-র সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি জানান, লিখিত অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।)