ঢাকা | বঙ্গাব্দ

​বর্ণিল রাঙামাটিতে বিশ্ব পর্যটন দিবসের মনোমুগ্ধকর আয়োজন: প্রকৃতি ও সংস্কৃতির মিলনমেলা

  • আপলোড তারিখঃ 27-09-2025 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 166810 জন
​বর্ণিল রাঙামাটিতে বিশ্ব পর্যটন দিবসের মনোমুগ্ধকর আয়োজন: প্রকৃতি ও সংস্কৃতির মিলনমেলা ছবির ক্যাপশন: ১

মোঃ কামরুল ইসলাম ://রাংগামাটি জেলা প্রতিনিধি :-

​রাঙামাটি, বাংলাদেশ  প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙামাটিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস (World Tourism Day) উদযাপিত হলো এক বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে। পাহাড়, হ্রদ আর সবুজের এই জনপদে পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে এবং স্থানীয় পর্যটন কর্মীদের উৎসাহিত করতে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। ম্যারাথন দৌঁড় থেকে শুরু করে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান—পুরো আয়োজনটিই ছিল পর্যটন-প্রেমীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস।

​ম্যারাথন ও র‍্যালিতে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস

​দিনের শুরুতেই ছিল ম্যারাথন দৌঁড় প্রতিযোগিতা, যা শুরু হয় রাঙামাটি পর্যটন কম্প্লেক্স থেকে। উৎসাহী প্রতিযোগীরা এতে অংশ নিয়ে রাঙামাটির মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে নিজেদের শারীরিক সক্ষমতা প্রমাণ করেন। এরপর শহরের জিমনেশিয়াম এলাকা থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। এই র‍্যালিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা অংশ নেন। সকলের মাথায় ছিল পর্যটন দিবসের বিশেষ টুপি, আর হাতে ছিল পর্যটনের গুরুত্ব তুলে ধরা ব্যানার। ছবিটি সেই র‍্যালিরই এক ঝলক, যেখানে দেখা যাচ্ছে অংশগ্রহণকারীরা পর্যটনকে স্বাগত জানাচ্ছে। র‍্যালিটি শেষে হয় জেলা পরিষদে এসে।

​আলোচনা সভা: পর্যটনের ভবিষ্যৎ ভাবনা

​জেলা পরিষদের এনেক্স ভবনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, যেখানে পর্যটন শিল্পের সমস্যা, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেব প্রসাদ দেওয়ান।

​সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি সদর সেনা জোনের বিদায়ী জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল মোঃ জুনাইদ উদ্দিন শাহ চৌধুরী এবং নবাগত জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল মোঃ একরামুল রাহাত, ট্যুরিস্ট পুলিশ রাঙামাটি রিজিয়নের পুলিশ সুপার খায়রুল আমিন-সহ অন্যান্যরা।

​সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য মোঃ হাবীব আজম। এই বছর ট্যুরিজম মিডিয়া ফেলোশিপ সম্মাননা প্রাপ্ত সাংবাদিক ইয়াছিন রানা সোহেল মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, যা উপস্থিত সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করে। তিনি পর্যটনকে এগিয়ে নিতে মিডিয়া ও স্থানীয় অংশীজনদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। এছাড়া প্রবীন শিক্ষাবিদ নীরুপা দেওয়ান, রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক-সহ আরও অনেকে পর্যটন বিকাশে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব রাঙামাটির সভাপতি বাদশা ফয়সাল ও রাঙামাটি বেতারের উপস্থাপিকা চৈতি ঘোষ।

​সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণী: অনুপ্রেরণার স্বীকৃতি

​আলোচনা সভার সমাপ্তি হয় সম্মাননা প্রদান ও পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে। পর্যটন শিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য বেশ কয়েকজনকে সম্মাননা জানানো হয়:

​পর্যটন ব্যক্তিত্ব সম্মাননা: লেখক ইয়াছিন রানা সোহেল

​সেরা রিসোর্ট সম্মাননা: রাঙ্গাদ্বীপ

​সেরা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সম্মাননা: আল আমিন সাজিদ

​এছাড়াও, মাসব্যাপী ট্যুর গাইড প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণার্থী এবং সকালে অনুষ্ঠিত ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এই সম্মাননাগুলো স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তা ও কর্মীদের জন্য নতুন করে কাজ করার প্রেরণা জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

​রাঙামাটির এই জমকালো আয়োজন প্রমাণ করে, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণ এই অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কতটা বদ্ধপরিকর। প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও পাহাড়ি জনজীবনের সংস্কৃতি—এই দুয়ের সমন্বয়ে রাঙামাটি অদূর ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম সেরা পর্যটন গন্তব্য হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করবে, এই প্রত্যাশা সকলের।

​রাঙামাটির এই পর্যটন উৎসব সম্পর্কে আপনার আর কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানতে আগ্রহ আছে কি?




কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

খাগড়াছড়িতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি রাঙামাটি জেলা কমিটির পক্ষ থেকে এম.এন লারমা’র প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন