অনলাইন ডেস্ক://
দেশের শিল্পখাতে গ্যাস সংকট নিরসন এবং দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে নতুন ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের গভীর সমুদ্রে একটি নতুন ভাসমান এলএনজি (LNG) টার্মিনাল স্থাপনেরও ঘোষণা দেন তিনি।
জাতীয় সংসদ সেশনে ও পরবর্তী এক নীতি নির্ধারণী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি রোডম্যাপের কথা তুলে ধরেন।
মহাপরিকল্পনার মূল দিকসমূহ:
- ১৫০ কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার: ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৫০টি নতুন কূপ খনন এবং পুরাতন কূপ সংস্কার (ওয়ার্কওভার) সম্পন্ন করা হবে। ইতোমধ্যেই ৩০টির কাজ শেষ হয়েছে, যা থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক অতিরিক্ত গ্যাস যুক্ত হচ্ছে।
- ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ: নতুন গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধানের জন্য ৪,৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি (2D) এবং ৪,২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি (3D) সাইসমিক জরিপ পরিচালনা করা হবে।
- বাপেক্স-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি: রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)-এর জন্য দুইটি নতুন অত্যাধুনিক ড্রিলিং রিগ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
- এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়ন: মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করার পাশাপাশি পায়রা বা মংলা উপকূলীয় অঞ্চলে আরও নতুন টার্মিনাল নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, বিগত সময়ের দেনা পরিশোধ এবং দেশীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে একটি টেকসই জ্বালানি খাত গড়ে তোলাই সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য। নতুন এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিল্প কলকারখানায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি বহুলাংশে কমে আসবে এবং আমদানিনির্ভরতা হ্রাস পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।