ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মিরপুর-১০ স্টেশন সংস্কারে সময় লাগবে, কাজীপাড়া চালু শিগগির

  • আপলোড তারিখঃ 18-09-2024 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 629553 জন
মিরপুর-১০ স্টেশন সংস্কারে সময় লাগবে, কাজীপাড়া চালু শিগগির ছবির ক্যাপশন: ১

কাজীপাড়া ও মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশন দুটি মেট্রোরেলের অন্যতম ব্যস্ত স্টেশন হিসেবে পরিচিত ছিল। যাত্রীদের বড় একটি অংশ প্রতিদিন চলাচল করতেন স্টেশন দুটি দিয়ে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ব্যাপক ভাঙচুরের ফলে সেগুলো বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) স্টেশন দুটি সংস্কার করছে।কাজীপাড়া স্টেশনের সংস্কার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চলতি মাসের শেষ দিকে যে কোনো দিন স্টেশনটি যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে। একইভাবে মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশন দ্রুত সংস্কারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে ডিএমটিসিএল। তবে এ স্টেশনটি সংস্কারে ঠিক কতদিন সময় লাগবে তা সুনির্দিষ্ট করে জানাতে পারেনি সংস্থাটি। কারণ অনেক যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে।

গত ১৯ জুলাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ছাত্র-জনতার সংঘর্ষের সময় এই দুটি স্টেশনে হামলা হয়। পরে ২৭ জুলাই সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, মেট্রোরেলের কাজীপাড়া ও মিরপুর-১০ স্টেশন এক বছরেও যন্ত্রপাতি এনে সচল করা সম্ভব হবে না। মেরামতে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার মতো খরচ হবে।

. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ডিএমটিসিএলের উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তাকে রদবদল করা হয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ডিএমটিসিএল জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কাজীপাড়া ও মিরপুর-১০ নম্বর স্টেশন সংস্কারে টাকার হিসাব ছিল কাল্পনিক। এ দুটি স্টেশন সংস্কারে এত বিপুল অর্থের প্রয়োজন পড়বে না।ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর মেট্রোরেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম এ এন সিদ্দিকের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকারের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। তখন তার পরিবর্তে ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট লাইন-৫ (উত্তর রুট) এর অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফকে ডিএমটিসিএলের এমডি নিয়োগ দেওয়া হয়।কোটা আন্দোলন চলাকালে গত ১৮ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে পুলিশ বক্সে ভাঙচুর করে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ফলে সেদিন বিকেলে অনির্দিষ্টকালের জন্য মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে ডিএমটিসিএল।এর পরের দিন মিরপুর-১০ এবং কাজীপাড়া স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি ঘটায় ঠিকমতো কাজ করতে পারেনি গঠিত কমিটি। পরে আব্দুর রউফ দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। পরে এই কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্ত স্টেশন দুটির সংস্কার কাজ করতে ১৩৮ কোটি টাকার বেশি লাগবে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় মেট্রোরেলের দুই স্টেশনে টিকিট কাটার ভেন্ডিং মেশিন থেকে শুরু করে ব্যবহৃত কম্পিউটার, অফিস কক্ষ, দরজা-জানালার কাচ, ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট কার্ড, টিকিট পাঞ্চ করার দরজা, ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) ইত্যাদির ক্ষতি হয়।

তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশনের। সেখানে টিকিট কাটার জন্য রাখা ছয়টি ভেন্ডিং মেশিনের সবগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এছাড়া ডিএমটিসিএলের কর্মীরা সশরীরে যেসব কাউন্টারে টিকিট বিক্রি করতেন, সেগুলোতেও ভাঙচুর চালানো হয়। একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্টেশনের দুদিকে থাকা এক ডজনেরও বেশি স্বয়ংক্রিয় দরজা।

সে তুলনায় কাজীপাড়া স্টেশনে ক্ষতি কিছুটা কম। হামলায় ওই স্টেশনের একপাশের ভেন্ডিং মেশিন, টিকিট কাউন্টার এবং যাত্রীদের আসা-যাওয়ায় ব্যবহৃত কিছু স্বয়ংক্রিয় দরজা ভাঙচুর করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।





কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

খাগড়াছড়িতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি রাঙামাটি জেলা কমিটির পক্ষ থেকে এম.এন লারমা’র প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন