মোঃ কামরুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি:-
রমজান মাস আত্মশুদ্ধি ও ত্যাগের মাস হলেও রাঙ্গামাটির কাঁচাবাজারে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। সংযমের মাসে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীর কাছে যেন অসংযমই’ মূখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইফতার থেকে সেহরি প্রতিটি পদের প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। কাঁচামরিচ থেকে শুরু করে খাসির মাংস, সবখানেই যেন লেগেছে আগুনের হল্কা।ইফতারির প্লেটে একটু শসা আর কাঁচামরিচ না হলে বাঙালির চলে না। কিন্তু বাজারের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০ থেকে এখন ২০০ টাকা কেজি। সালাদের প্রধান উপকরণ শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে এখন ৮০ টাকায়। মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস উঠলেও ব্যবসায়ীদের অজুহাত সরবরাহ কম। বাজারে টমেটো ৫০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা এবং একটি ফুলকপি ৪০ টাকায় কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের পকেটে টান পড়ছে।
রমজানের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছোলা বা বুট। প্রতি কেজি ছোলা কিনতে গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকা। মিষ্টি জাতীয় খাবার তৈরিতে প্রয়োজনীয় চিনির কেজি ১০৫ টাকা। অথচ সাধারণ আলুর দাম ২৫ টাকা হলেও পিয়াজ কিনতে খরচ হচ্ছে ৭০ টাকা। রান্নার অপরিহার্য মসলা রসুন যেন রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, মানভেদে এটি ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। পিছিয়ে নেই আদা, যার দাম এখন ১৪০ টাকা কেজি।
আমিষের বাজার: মাংস এখন ‘স্বপ্ন’
নিম্নবিত্তের প্রোটিনের শেষ আশ্রয়স্থল ব্রয়লার মুরগিও এখন চড়া মেজাজে। বাজারে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে এখন ২০০ টাকা দরে। আর যারা একটু শৌখিন, তাদের জন্য দেশি মুরগি কেনা যেন দুঃস্বপ্ন; এর কেজি ৫৬০ থেকে এখন ৬০০ টাকা।
বাজারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অংশ মাংসের দোকানগুলো। গরুর মাংস ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১০৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জন্য এই দামগুলো যেন এক একটি পাহাড়। ডিমের বাজারে কিছুটা ভিন্ন চিত্র থাকলেও ১০০ টাকায় ১১টি ডিম মিলছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশ বেশি।
বাজারে আসা এক ক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, রোজা রাখবো কী দিয়ে আর ইফতার করবো কী দিয়ে, বাজারের যে অবস্থা, তাতে মাছ-মাংস তো দূরের কথা, শাকসবজি কিনতেই বেতন শেষ হয়ে যাচ্ছে।পাইকারি বিক্রেতারা বরাবরের মতোই দুষছেন সরবরাহ সংকটকে, কিন্তু সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ বাজার মনিটরিংয়ের অভাবেই খুচরা ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন। রমজানের পবিত্রতাকে পুঁজি করে এক শ্রেণির মুনাফালোভী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।রমজানের এই কঠিন সময়ে সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে কঠোর বাজার তদারকি এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, সংযমের এই মাসে সাধারণ মানুষের জন্য পেট ভরে খাওয়াটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।