মোঃ মনিরহোসেন ://
ইতিহাস, সংস্কৃতি আর আবেগ - এই তিনের সেতুবন্ধনেই গড়ে উঠেছে আজকের ভালোবাসা দিবস।
বসন্ত ও ভালোবাসার সংযোগ
বাঙালির সংস্কৃতিতে বসন্ত মানেই নতুনের ডাক। শীতের ধূসরতা পেরিয়ে যখন প্রকৃতি নতুন পাতা আর ফুলে সাজে, তখন মানুষের মনেও এক ধরনের সজীবতা কাজ করে। এই মানসিক নবজাগরণ ভালোবাসার অনুভূতিকেও উসকে দেয়।
বাসন্তী শাড়ি, হলুদ পাঞ্জাবি, কপালে গাঁদা বা পলাশ - রঙ যেন পোশাক ছাড়িয়ে আবেগে ছড়িয়ে পড়ে। ভালোবাসা দিবস আর পহেলা ফাল্গুন প্রায় একই সময়ে পড়ায় দুই সংস্কৃতির মিলন ঘটে এক অনন্য আবহে। পাশ্চাত্যের ভ্যালেন্টাইন আর প্রাচ্যের বসন্ত - এ যেন হৃদয়ের কূটনৈতিক সেতুবন্ধন।
কবিতা, গান ও আবেগের উত্তরাধিকার
বসন্তকে ঘিরে আমাদের সাহিত্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে’ কিংবা কাজী নজরুল ইসলামের বসন্তগীতি - এসব সুরে প্রেম, বিরহ আর মিলনের কথা বারবার ফিরে আসে। বসন্তের আবহে ভালোবাসা যেন শব্দ পায়, সুর পায়, ভাষা পায়।
আজকের ভালোবাসায় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিলন
আজকের ভালোবাসা দিবস শুধুই আমদানি করা উৎসব নয়। এটি আমাদের সাংস্কৃতিক ক্যালেন্ডারের অংশ হয়ে গেছে। ফুলের তোড়া, হাতে লেখা চিঠি, কিংবা সাদামাটা একসঙ্গে হাঁটা - সবই হয়ে উঠেছে ভালোবাসার ভাষা।
তবে ভালোবাসার জন্য আসলেই আলাদা দিন লাগে না - তবুও একটি দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সম্পর্ককে যত্নে রাখার কথা। বসন্ত যেমন পুরোনো ঝরিয়ে নতুনের আহ্বান জানায়, তেমনি ভালোবাসাও শেখায় নতুন করে শুরু করতে।