ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সেনাবাহিনী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম

  • আপলোড তারিখঃ 16-02-2026 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 92 জন
সেনাবাহিনী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম ছবির ক্যাপশন: ১

নিজস্ব প্রতিবেদ :// রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং  স্থিতিশীলতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দায়িত্ব পালনে যে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছে, তা হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে এই বাহিনী তাদের নিষ্ঠা, দক্ষতা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে আস্থা অর্জন করেছে।


পেশাদারিত্ব একটি সামরিক বাহিনীর মূল শক্তি। প্রশিক্ষণ, কৌশলগত দক্ষতা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ—এসব গুণের সমন্বয়ে একটি বাহিনী প্রকৃত অর্থে পেশাদার হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিত দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া ও আধুনিকায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে চলেছে। ফলে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বা জরুরি পরিস্থিতিতে তারা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়।


শৃঙ্খলা সেনাবাহিনীর প্রাণ। একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, জাতীয় সংকটেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস কিংবা মহামারির মতো দুর্যোগে সেনাবাহিনীর তৎপরতা জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় করেছে। উদ্ধার তৎপরতা, চিকিৎসা সহায়তা, ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি অবকাঠামো পুনর্গঠনে তাদের ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বকে আরও অর্থবহ করে তোলে।


আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সুনাম অর্জন করেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখে চলেছে। United Nations–এর শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। এটি দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে এবং কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।


সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন প্রক্রিয়াও উল্লেখযোগ্য। প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধকৌশল, সাইবার সক্ষমতা, উন্নত সরঞ্জাম এবং  অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বাহিনী সময়োপযোগী হয়ে উঠছে। সমসাময়িক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই আধুনিকায়ন অপরিহার্য। তবে প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, তার সঠিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ—যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্যতম শক্তি।


রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা কেবল সামরিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা, নির্বাচনকালীন সহায়তা, অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা—এসব ক্ষেত্রেও তারা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। তবে এ ধরনের সহায়তা সবসময় সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে এবং বেসামরিক প্রশাসনের সহযোগী হিসেবে পরিচালিত হয়েছে—যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


সেনাবাহিনীর আরেকটি বড় শক্তি হলো তাদের নৈতিক মানদণ্ড ও দলগত চেতনা। কঠোর প্রশিক্ষণ ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে সদস্যদের মধ্যে দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের মনোভাব গড়ে তোলা হয়। এই মূল্যবোধই বাহিনীকে অন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানের তুলনায় আলাদা মর্যাদা দেয়।


তবে পেশাদারিত্ব ধরে রাখতে হলে ধারাবাহিক সংস্কার, প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আধুনিক বিশ্বে সামরিক বাহিনীর সাফল্য নির্ভর করে দক্ষ নেতৃত্ব, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণের ওপর। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ দিকগুলোতে অগ্রগতি অর্জন করেছে, এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রাখা জরুরি।


সব মিলিয়ে বলা যায়, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলায় অনন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের এক নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ। তাদের সাফল্য কেবল সামরিক অর্জনে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানবিক সহায়তা, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা ও জাতীয় আস্থার ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রতিফলিত। একটি স্থিতিশীল ও অগ্রসর বাংলাদেশের পথে সেনাবাহিনীর এই পেশাদার ও দায়িত্বশীল ভূমিকা ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।




কমেন্ট বক্স
notebook

কারওয়ান বাজারের কাঠপট্টিতে আগুন